শনিবার, ৩রা অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বিশেষ মর্যাদায়, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে মিলছে সেই ইঙ্গিত *** হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির, অংশ নিতে পারেন লাখো ইয়েমেনি সেনা *** জামায়াতের আখতারুজ্জামান এক দিনের রিমান্ডে *** ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলা, সেই সহকারী পাইলটের পরিচয় কী *** সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বললে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে: মার্কিন দূতাবাস *** বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার *** ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ছবি প্রকাশ *** মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চেয়ে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর *** মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ দাফন ও সৎকারে বরাদ্দ সাড়ে ৯ কোটি টাকা *** ইলিশ আহরণে বিরত রাখতে সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ১৬৫৭ টন চাল বরাদ্দ

নব্য জেএমবির কে এই ‘বোমারু মামুন’?

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, ১২ই আগস্ট ২০২৬

#

ফাইল ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, বিভিন্ন রাসায়নিক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একটি সক্রিয় চক্র। ওই অভিযানে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এই চক্রের পেছনে রয়েছেন নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’।

মামুনকে নিয়ে পুলিশের বর্তমান অনুসন্ধানের সঙ্গে তার অতীতের গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ও রয়েছে। ২০১৭ সালের রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল-সংক্রান্ত মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ফলে ওই মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। এখন পুলিশ যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে খুঁজছে, তা সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের ঘটনা ও নতুন তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সিটিটিসির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের পর তদন্তে নাজমুল হাসান মামুন ও মোহাম্মদ আরিফের নাম সামনে আসে। এর আগে কেরানীগঞ্জে একটি বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তাদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

পরে ৩১ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদিদোকানের সামনে ফেলে যাওয়া ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় আসে। এসব ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে মামুনের নাম আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিটিটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে সাভারের শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ ২ আগস্ট ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। বাড়ির মালিকের পরিবারকে তিনি নিজেকে চালক ও শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ছয়টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৫টি বোমা নিষ্ক্রিয় করে জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য উদ্বেগের জায়গাটি শুধু বোমা উদ্ধারের সংখ্যা নয়। তদন্তকারীরা বলছেন, বাড়িটিতে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও বিভিন্ন রাসায়নিক মজুত ছিল। একই সঙ্গে নব্য জেএমবির সাংগঠনিক ও দাওয়াতি লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, জায়গাটি শুধু বিস্ফোরক রাখার জন্য নয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কে এই ‘বোমারু মামুন’—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১৭ সালের ঘটনাপ্রবাহে। তখন নাজমুল হাসান মামুনের বয়স ছিল খুব বেশি নয়। পুলিশ ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তিনি নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বোমা তৈরির কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও শুরা সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

এর কয়েক মাস আগে, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট, রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালায় সিটিটিসি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে নব্য জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। অভিযানের একপর্যায়ে হোটেলের একটি কক্ষে থাকা সাইফুল ইসলাম নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিস্ফোরণে হোটেলের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় করা মামলার অভিযোগপত্রে নাজমুল হাসান মামুনের নাম ছিল।

মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে বোমা তৈরির পাশাপাশি জঙ্গিদের সহায়তা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিভিন্ন সময় পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, নব্য জেএমবির জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কাজে মামুনের ভূমিকা ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

কিন্তু দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হোটেল ওলিও মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন। খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় নাজমুল হাসান মামুনের নামও রয়েছে।

এখানেই বর্তমান তদন্তের সঙ্গে অতীতের মামলাটির পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। হোটেল ওলিও মামলায় খালাস পাওয়ার অর্থ ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের তদন্তে তার নাম আসার বিষয়টি আলাদা। পুলিশ বলছে, নতুন ঘটনাগুলোর আলামত, যোগাযোগ, অবস্থান এবং সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার সাভার থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আরিফের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এমনকি তদন্তকারীদের একজন তাকে আরিফের ‘গুরু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামুন ও তার অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর আরও একটি দিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবাচ্ছে। সিটিটিসির কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার বা সাজাপ্রাপ্ত কিছু জঙ্গি কারাগার থেকে পালিয়ে যান বা জামিনে মুক্ত হন। তাদের কেউ কেউ আবার ছোট ছোট দলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণ, মতিঝিলের বোমা উদ্ধার এবং এসব ঘটনায় নাজমুল হাসান মামুন ও মোহাম্মদ আরিফের যোগাযোগের কথা উঠে এসেছে।

বর্তমান ঘটনায় পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া আলামত, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।

নব্য জেএমবির কার্যক্রম নিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্বেগ নতুন নয়। অতীতে বড় ধরনের হামলা ও হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সংগঠনটির বিভিন্ন সদস্যের নাম এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংগঠনটির বড় নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও বিচ্ছিন্ন ছোট সেল বা গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করেছে পুলিশ।

মামুন এখনো গ্রেপ্তার হননি। ফলে তিনি কোথায় আছেন, সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে তার প্রকৃত ভূমিকা কী, তার সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং কোনো বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে।

জানা গেছে, নব্য জেএমবির মামুন একসময় ছিলেন মূলত নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সাতগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন। এলাকায় সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। অনেকের বাড়িতে গিয়ে তখন ছাত্র পড়াতেন মামুন। তার পিতার নাম হান্নান এবং মাতার নাম শিউলি। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের চালিতাডাঙ্গায়। পাশের সমাজকল্যাণ বাজার মসজিদের একসময়ে ইমাম এরশাদ উল্লাহ তাকে এনে নোয়াগাঁও মসজিদে চাকরি দেন। তিনি সম্পর্কে মামুনের ভগ্নিপতি।

২০২১ সালের ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আড়াইহাজারের মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মামুনকে ওই বছরই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে বোমাটি আড়াইহাজারের বাড়িতে তৈরি ছিল।

বোমারু মামুন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বিশেষ মর্যাদায়, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে মিলছে সেই ইঙ্গিত

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৭ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির, অংশ নিতে পারেন লাখো ইয়েমেনি সেনা

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪২ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতের আখতারুজ্জামান এক দিনের রিমান্ডে

🕒 প্রকাশ: ০৭:২৬ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলা, সেই সহকারী পাইলটের পরিচয় কী

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৯ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বললে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে: মার্কিন দূতাবাস

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৩ অপরাহ্ন, ৩রা অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250