শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর *** ‘সমাজ এখনো নারীকে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়’ *** জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটল, নেপথ্যে কী *** কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতার মিছিলে ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ রতন, ভিডিও ভাইরালের পর সমালোচনা *** কক্সবাজার নিয়ে বিপদে সরকার, উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সংস্থা: শাহে আলম *** মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুট: পুলিশের অবহেলা তদন্তে কমিটি, প্রতিবেদন দিতে হবে আজই *** হরমুজ খুলে দিতে ইরানের সাত দিনের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প *** হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘নতুন পরিকল্পনায়’ সর্বোচ্চ নেতার সমর্থন: ইরানের প্রেসিডেন্ট *** ‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ: একাত্তর-চব্বিশ মুখোমুখি না করার দাবি *** আবু জাফর সূর্যকে আটকের নিন্দা, দ্রুত মুক্তির দাবি নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের

সুখবর এক্সপ্লেইনার

জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটল, নেপথ্যে কী

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩২ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের প্রধান কার্যালয় আজ শনিবার দিনভর ছিল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে একদিকে পুলিশের অভিযান চলে। অন্যদিকে কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতা-কর্মী। পরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদেরও সেখানে দেখা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করে নিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। তারা সেখানে গোপন বৈঠক করছিলেন। নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে জাসদের নেতারা সুখবর ডটকমকে বলেছেন, দলটির নিজস্ব প্রতিনিধি সভাকে কেন্দ্র করেই ওই জমায়েত হয়েছিল। সভার নিরাপত্তা এবং মাইক ব্যবহারের অনুমতির জন্য পুলিশকে লিখিত আবেদনও করা হয়েছিল।

দিনের ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তাই শুধু কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় কীভাবে অন্য একটি দলের নেতা-কর্মীদের ঘেরাও, স্লোগান ও রাজনৈতিক চাপের কেন্দ্রে পরিণত হলো। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কোথায় শেষ হলো, রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকা কোথা থেকে শুরু হলো।

শনিবার দুপুর আড়াইটার পর জাসদের কার্যালয় ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আটক করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাই করে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে না, তাদের ক্ষেত্রে অন্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সেখানে একত্র হয়েছিলেন। তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন—এমন তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে বলে উপপুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন। তাদের জমায়েতের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও সামনে এসেছে। জাসদ বলছে, তারা প্রতিনিধি সভা আয়োজনের জন্য আগেই পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল। দলটির দাবি, গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়। আবেদনের কপিতে গ্রহণের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জাসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এ ধরনের আবেদনের বিষয়ে তার জানা নেই। ফলে আবেদন করা হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা তা যথাযথভাবে পেয়েছিলেন কি না, সেটিও এখন যাচাইয়ের বিষয়।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পুলিশের অভিযানের আগেই জাসদ কার্যালয়ের সামনে যুবদলের নেতা-কর্মীদের অবস্থান। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

নয়ন সাংবাদিকদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে মিছিল করার বিষয়টি তাদের ‘নেটওয়ার্কে’ ধরা পড়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা একত্র হয়েছেন। এরপরই নেতা-কর্মীরা সেখানে যান।

তবে নয়নের বক্তব্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি বলেছেন, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের যাতে কেউ মারধর না করে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক ছিলেন। তার ভাষ্য, সেখানে বৃদ্ধ, নারী ও তরুণ ছিলেন। তাদের গায়ে হাত দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

কিন্তু একই সঙ্গে নয়ন ঘোষণা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ যাতে ঢাকার কোথাও মিছিল-মিটিং করতে না পারেন, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই বক্তব্যই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যকে আরও স্পষ্ট করে। কারণ, কোনো সংগঠনের কর্মসূচি আইন ভঙ্গ করছে কি না, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নিজেদের উদ্যোগে অন্য একটি দলের কর্মসূচি ঠেকানোর দায়িত্ব নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করার ক্ষমতা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর হাতে চলে গেলে আইন ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উপস্থিতিও দিনের ঘটনাকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দেয়। পল্টন থানার জামায়াতের সেক্রেটারি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সূরা সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে জমায়েত হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে পল্টন থানার আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা সেখানে যান। তারা পল্টন মোড় থেকে মিছিল নিয়ে জাসদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন।

অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে ঘিরে একদিকে পুলিশি অভিযান, অন্যদিকে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি—দুই ধরনের শক্তি একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এখানেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে যুক্তিসংগত আইনি বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশের অধিকার দেওয়া হয়েছে। ৩৮ অনুচ্ছেদে সংগঠন করার অধিকারও স্বীকৃত। অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দল আইনসিদ্ধভাবে সভা করলে সেটি বন্ধ করার প্রশ্নে আইনগত প্রক্রিয়াই হওয়ার কথা।

কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ঘেরাও করে অন্য দলের নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি ঠেকানো, রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা কিংবা দলীয় শক্তি দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া সেই সাংবিধানিক রাজনৈতিক পরিসরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—বিশেষ করে যখন সেখানে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে কোনো জমায়েত যদি নাশকতা বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ অবশ্যই রাষ্ট্রের রয়েছে। সেই ব্যবস্থা হতে হবে প্রমাণ, আইন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে।

দেশের রাজনীতিতে এই ধরনের ঘটনার নজির নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে পুলিশের অভিযান হয়েছে। ২০১৩ সালের ১১ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান ছিল তার বড় উদাহরণ। ওই অভিযানে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদে উঠে আসে। পুলিশ কার্যালয় থেকে বোমা উদ্ধারের দাবিও করেছিল।

সরকার তখন অভিযানকে অনিবার্য বলে ব্যাখ্যা করেছিল। তাদের দাবি ছিল, বিএনপি কার্যালয় থেকে বোমা হামলা ও নাশকতার চেষ্টা হয়েছিল। অন্যদিকে বিএনপি অভিযানকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে দেখেছিল। সে সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেও পুলিশের ওই অভিযান নিয়ে সমালোচনার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বরও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পর পুলিশ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। পুলিশ কার্যালয় থেকে বোমা ও অন্যান্য সামগ্রী কথিত উদ্ধারের দাবি করে। বিএনপি এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়। পরে কার্যালয়ের ভেতরে তছনছের অভিযোগও ওঠে।

এই ধারাবাহিকতার দিকে তাকালে দেশের রাজনীতির একটি পুরোনো চিত্র স্পষ্ট হয়। ক্ষমতায় থাকা দল কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যখন বিরোধী দলের কর্মসূচিকে নিরাপত্তা বা নাশকতার অজুহাতে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন বিরোধী দল সেটিকে রাজনৈতিক দমন বলে অভিযোগ করে। সময় বদলালে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবস্থানও বদলায়। কিন্তু পদ্ধতিটি থেকে যায় একই রকম।

আজ যে রাজনৈতিক শক্তি প্রতিপক্ষের কর্মসূচি ঠেকাতে মাঠে নামে, কাল তারাই একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ কম নেই।

জাসদ কার্যালয়ের শনিবারের ঘটনাও সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে একটি বিষয় অবশ্যই আলাদা করে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়ে থাকলে তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইন কী বলছে, সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের বিষয়। কিন্তু কোনো দলের কার্যালয়ে কে বৈঠক করবে, কে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে, কে স্লোগান দেবে—এসব প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে চলে যাওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

কারণ, রাষ্ট্রের আইন যদি নির্ধারণ করে দেয় কোন কর্মকাণ্ড বৈধ আর কোনটি অপরাধ, তাহলে সেই আইন প্রয়োগের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া সেই ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

শনিবারের ঘটনায় পুলিশ বলছে, তারা আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা যাচাই করছে। এই যাচাইয়ের ফলই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই যদি তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম বা নাশকতার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকে, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি তা না থাকে, তাহলে নিরপরাধ ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়াই ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া।

একই সঙ্গে জাসদের প্রতিনিধি সভার আবেদনের দাবিটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। আবেদন করা হয়ে থাকলে পুলিশ কেন তা জানে না, সেটিও প্রশ্ন। আর যদি আবেদন না করা হয়ে থাকে, জাসদের দেওয়া গ্রহণ সিলযুক্ত কাগজের ব্যাখ্যাও প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে গুলিস্তানের জাসদ কার্যালয়ের ঘটনা শুধু একটি দিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনা নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গভীর সমস্যাকেও সামনে এনেছে। প্রতিপক্ষের কর্মসূচি ঠেকানো, দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করা, রাজনৈতিক শক্তি দেখিয়ে সভা বন্ধ করা এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ওপর দায় ঠেলে দেওয়া—এসবের কোনোটিই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার লক্ষণ নয়।

গণতন্ত্রে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার প্রধান জায়গা রাজনৈতিক মাঠ। সেখানে যুক্তি, বক্তব্য, কর্মসূচি ও জনগণের সমর্থনই হওয়া উচিত মূল অস্ত্র। কার্যালয় ঘেরাও, ভয় দেখানো কিংবা কর্মসূচি করতে না দেওয়ার সংস্কৃতি সেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে সংকুচিত করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, আজকের গুলিস্তানের ঘটনাও তেমনি নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সরকার বদলেছে। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি বদলেছে কি না—জাসদ কার্যালয়ের শনিবারের ঘটনা সেই প্রশ্নটিই সামনে এনে দিয়েছে।

গণতন্ত্রের পরীক্ষা শুধু নিজের দলের কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যে নয়। পরীক্ষাটি হলো, যে দল বা সংগঠনের বক্তব্য নিজের কাছে অগ্রহণযোগ্য, তাদের আইনসিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না। গুলিস্তানের জাসদ কার্যালয়ে শনিবারের ঘটনা সেই জায়গাতেই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি রেখে গেছে।

সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

🕒 প্রকাশ: ০৯:৫০ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সমাজ এখনো নারীকে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়’

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটল, নেপথ্যে কী

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩২ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতার মিছিলে ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ রতন, ভিডিও ভাইরালের পর সমালোচনা

🕒 প্রকাশ: ০৯:০৬ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার নিয়ে বিপদে সরকার, উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সংস্থা: শাহে আলম

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250