ছবি: সংগৃহীত
সমাজ এখনো নারীকে স্বাধীনভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংকট অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আজ শনিবার ঢাকার কাকরাইলে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার চতুর্দশ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নারী ও কন্যার জন্য সহিংসতামুক্ত ঢাকা মহানগর চাই’ স্লোগানে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
মালেকা বানু বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন কখনোই সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নারী আন্দোলনের মাধ্যমে সমতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতার নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাইবার সহিংসতার কারণে নারীরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
নারী আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়ে মালেকা বানু বলেন, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুনা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুনা আক্তার বলেন, নারীদের পিছিয়ে রাখার জন্য সমাজে বিভিন্ন ধরনের বয়ান ও যুক্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সাল থেকে নারীরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
রুনা আক্তার বলেন, বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও নারীরা রয়েছেন এবং তারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। গার্মেন্টস শ্রমিক ও রেমিট্যান্স কর্মী হিসেবেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহিলা পরিষদ প্রায় ৫৬ বছর ধরে কাজ করছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারী উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামো, সিডও সনদ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং নারীবান্ধব আইনগুলো নারী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এসব অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।
রেহানা ইউনুস বলেন, সব বাধা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঢাকা মহানগরকে নারী ও শিশুর জন্য সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর শাখার সহসভাপতি মোমেনা শাহনূর বলেন, নারীরা শক্তির আধার। তারা ঘরে ও বাইরে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।
পরিবারে মেয়েদের প্রতি বৈষম্য না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও প্রতিষ্ঠিত করে গড়ে তুলতে পরিবারকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সম্মেলনে রেহানা ইউনুসকে সভাপতি এবং কানিজ ফাতেমা টগরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যের নতুন ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।
খবরটি শেয়ার করুন