ছবি: সংগৃহীত
২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পরেও কবি মোহন রায়হানকে এই পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
আজ শুক্রবার (২৭শে ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলিম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এই প্রতিক্রিয়া জানান।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে কোনো সুনির্দিষ্ট বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই মোহন রায়হানের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা পুরস্কার স্থগিত রাখা কেবল কবির ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সৃজনশীল সাহিত্যের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন কবির সৃষ্টিশীলতাকে রাজনৈতিক চশমায় বিচার করে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান থেকে বঞ্চিত করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। মোহন রায়হান স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন লড়াকু মানুষ। তাকে এভাবে অপমান করার অর্থ দেশের গণতান্ত্রিক ও সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা।
একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমির এমন নতিস্বীকার ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মনে করে, এ ঘটনা দেশের লেখক-শিল্পী সমাজের জন্য এক চরম অবমাননাকর দৃষ্টান্ত।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিতে উদীচীর পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। অবিলম্বে কবি মোহন রায়হানকে যথাযথ মর্যাদায় তার প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কী কারণে এবং কার প্ররোচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করার পাশাপাশি সৃজনশীল সাহিত্যচর্চায় রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
খবরটি শেয়ার করুন