ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা মনে করছেন, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বক্তব্য, তৎপরতা ও প্রশাসনিক পদায়নে পক্ষপাতমূলক আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত সোমবার (১৩ই অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এই সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারের কিছু উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে। খবর প্রথম আলোর।
এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর, প্রশাসনিক রদবদল ও নির্বাচনী প্রস্তুতিসহ আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করবে। এ বিষয়গুলো প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করার পাশাপাশি তাদের উদ্বেগের কথাও জানাবেন।
ওই সূত্রগুলো জানায়, সরকারের কিছু উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বৈঠকে একাধিক সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—যারা নিরপেক্ষ থাকার কথা, তারা এমন কিছু আচরণ করছেন, যাতে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ তৈরি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে কয়েকজন নেতা বলেন, ৫ই আগস্টের পর প্রশাসনে যেসব রদবদল বা নতুন পদায়ন হয়েছে, সেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরিতেও ওই দলের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কও তত বাড়ছে।
সভায় বিএনপির নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেন, সরকারের এখনই উচিত নিজেদের চরিত্র এমনভাবে দাঁড় করানো, যাতে জনগণ এবং সব দল আশ্বস্ত হয়—এ সরকার সত্যিকার অর্থেই তত্ত্বাবধায়ক ধাঁচের নিরপেক্ষ সরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা চাই না, এই সরকার তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলুক। তবে কিছু উপদেষ্টার আচরণে মানুষ সন্দিহান হচ্ছে। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকারের উচিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন