ছবি: দ্য উইক
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের কৌতূহল এবার চোখে পড়ার মতো। কারণ এই নির্বাচনটি শুধু একটি ক্ষমতার সাধারণ পালাবদল নয়, বরং এটি ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় ১৭ মাস পরে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ই ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের জেন-জি ভোটারদের প্রত্যাশা: চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি, সুশাসন এবং ভয়ভীতি ছাড়া কথা বলার স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে।
২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া এক গণ–অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের ভোটকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশটিতে কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ বড় শিল্প খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে বাংলাদেশে বেশি ভোটারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গতকাল বুধবার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তারা ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণ আশা করছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আবুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা অনেক তরুণ শেখ হাসিনার কঠোর শাসনের সময় কার্যত নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
‘বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের নানা দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, তরুণ ভোটারদের অনেকেই ২০২৪ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের আশা, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা বয়ে আনবে।
‘২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে নিরাপত্তা জোরদার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার ‘স্বৈরশাসন’ পতনের পর এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার পর এটিই প্রথম নির্বাচন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের ভোটকে ঘিরে সারাদেশে ১ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় রয়েছেন এক লাখ সেনাসদস্যসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। এই নির্বাচনে তালিকাভুক্ত ভোটারসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ।
আজকের নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।
এতে বলা হয়েছে, ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যেকোনো নির্বাচনের মতো নয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থী দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।
ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থী শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন রূপ তৈরি করছে।
নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ৫০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র “ঝুঁকিপূর্ণ”, অধিকাংশ কেন্দ্রেই সিসিটিভি স্থাপন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
খবরটি শেয়ার করুন