রবিবার, ২৫শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আজই ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প *** সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম-কানুন পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর *** টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ *** তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের প্রস্তাব *** সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের লাশ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার *** মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করে এসি ল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, পরিবারের দাবি মানসিক সমস্যা *** সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে কূটনৈতিক যোগাযোগের ফাঁক উন্মোচিত, ঢাকার অজান্তেই আরও ২০ জনের পরিণতি অনিশ্চিত *** আসিফ আকবরের চালকের পেছনের আসন বরাবর গুলি করা হয় *** এমপির বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি, সমালোচনার মুখে বললেন ‘ভাইরাল হতে চাই’

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়ছে

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৫:১৭ অপরাহ্ন, ২৩শে জুন ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান সরকার গঠিত হওয়ার পর গণমাধ্যম অঙ্গনে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় ও দলটির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের মধ্যে আশা জাগে, সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিগত সময়ের চেয়ে তুলনামূলক স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হবে।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলে থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গণমাধ্যমের ওপর চাপ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার সমালোচনা করেছিল। ফলে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশাও আছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিতর্কিত সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলা, গণহারে আসামি করা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির যে নজির তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছিল। সে সময় সম্পাদক, প্রতিবেদক, টেলিভিশন সাংবাদিক থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধেও গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে।

আড়াইশ’র বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। অনেক সাংবাদিক আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন, কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হন। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নতুন আশাবাদে উজ্জীবিত হয় সাংবাদিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যম।

বিএনপির নতুন সরকারের সময় ইউনূস সরকারের আমলের মতো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা দায়ের, তাদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল, চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেনি। তারেক রহমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিনে কারামুক্ত হন, তিনি ইউনূস আমলে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়ের হওয়া এক মামলায় চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটির তদন্ত হয় বিএনপি সরকারের আমলে।

এসব ঘটনায় অন্যদের মধ্যেও কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, মামলাগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষেত্রে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের জামিন পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন তারা। কিন্তু সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় বিভিন্ন ঘটনা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার একটি ফারাক সামনে আনছে। এ সময়ে কয়েক সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে, সংবাদ সংগ্রহকালে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

সাংবাদিক সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও এগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ, নতুন সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোন দিকে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিএনপি সরকারের সময় কারাগারে যাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম শওকত মাহমুদ। দলটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। তার গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও বিষয়টি গণমাধ্যম মহলে আলোচনা তৈরি করে। কারণ, তিনি একই সঙ্গে রাজনীতিক ও দীর্ঘদিনের সাংবাদিক।

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় বেসরকারি সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আহমেদ জোবায়েরকে ১৮ জুন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের উপজেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন। বেশি আলোচনায় আসে বগুড়াভিত্তিক দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনা। ১৮ জুন রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রভাবশালী এক প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে রেজানুরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল ‘ঢাকার জেলা প্রশাসক নিয়োগে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন, একই সিন্ডিকেট জড়িত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরকোণের ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিবগঞ্জ থানা ও আদালতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে। সম্পাদক পরিষদ, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন এবং মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

তাদের বক্তব্য, সংবাদ প্রকাশের জবাব সংবাদ বা আইনি প্রতিকারের মাধ্যমে হতে পারে; কিন্তু সম্পাদককে কারাগারে পাঠানো একটি ভীতিকর বার্তা তৈরি করতে পারে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, নতুন সরকারের চারমাসে মামলা দায়েরের ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

বগুড়ার ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানি, চাঁদাবাজি, তথ্য বিকৃতি কিংবা অন্যান্য অভিযোগে মামলা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব মামলার সব যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। আবার সব মামলাই যে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পরিপন্থী, তাও নয়। তবে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদককে তার পেশাগত কাজের কারণে মামলার মুখোমুখি হতে হয়, তখন প্রতিটি ঘটনাই সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বর্তমান সরকারের আমলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা পুরোপুরি থেমে নেই। মে মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এক মাসেই ৫৫ জন সাংবাদিক হামলা, হুমকি, মামলা, গ্রেপ্তার বা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে শারীরিক হামলা, সংবাদ সংগ্রহে বাধা, রাজনৈতিক কর্মীদের আক্রমণ এবং আইনি হয়রানির ঘটনাগুলোর উল্লেখ করা হয়। যদিও এসব ঘটনার সবগুলোর জন্য সরাসরি সরকারকে দায়ী করা হয়নি, তবু সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ঢাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সম্প্রতি কয়েক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এতে সাংবাদিকদের আহত হওয়ার পাশাপাশি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঘটনার তদন্ত দাবি করে। এর আগে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের বিচারের দাবি করে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আজ মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হন সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমান শিশির। ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। 

চলতি বছরের ১২ মার্চ চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ছাত্রদলে নেতা রিদুয়ান সিদ্দিকী। মামলায় আসামি করা সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ এবং চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ।

ভোলার চরফ্যাশনে গত ২৮ এপ্রিল সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া। মামলার আসামিরা হলেন চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার মাহামুদ নিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক কামাল গোলদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান সিকদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল, নির্বাহী সদস্য আবু সিদ্দিক ও আমিনুল ইসলাম।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে মামলা দায়ের করেন শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলতাফুর রহমান।

অন্যদিকে, সম্প্রতি গাজীপুরে সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও জাতীয় গণমাধ্যমে স্থান পায়। এমন বাস্তবতায় সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে নতুন করে ‘চিলিং ইফেক্ট’ বা ভীতিকর পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ব্যাপক মামলা ও গ্রেপ্তারের সঙ্গে এক কাতারে ফেলা কঠিন।

কারণ, সেই সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ গুরুতর অভিযোগে গণহারে আসামি করার নজির দেখা গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে সেই মাত্রার ঘটনা এখনো দেখা যায়নি। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলার বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো যদি কার্যকরভাবে মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

গণমাধ্যম গবেষক ও সম্পাদকদের মধ্যে অনেকে মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার প্রতি সহনশীলতা। কোনো সংবাদ ভুল হলে তার প্রতিকার আছে—প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা, প্রেস কাউন্সিল, দেওয়ানি আদালত কিংবা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা। কিন্তু ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অনেক সময় সাংবাদিকদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তৈরি করে। ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের মতে, ড. ইউনূস সরকারের আঠারো মাস দেশের সাংবাদিক সমাজ যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তার পর নতুন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটি নিরাপদ ও স্বাধীন কর্মপরিবেশ। সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি ভেঙে যায়নি, তবে চার মাসের কিছু ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই স্বস্তির পথে এগোচ্ছে, নাকি পুরোনো উদ্বেগ নতুন রূপে ফিরে আসছে?

এ প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং বিচারব্যবস্থা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওঠা মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলার ঘটনাগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করে তার ওপর। বিচ্ছিন্ন বলে মনে হওয়া ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন—যাতে ভবিষ্যতে উদ্বেগ নয়, আস্থাই প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠে।

গণমাধ্যম সাংবাদিক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250