বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সিইসির সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত *** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন *** নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কাছে ৭১ সংগঠনের ১০ সুপারিশ *** ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না’ *** ‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে *** পায়ে পাড়া দিয়ে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ থাকব, তা হবে না: শফিকুর রহমান

পুরুষাঙ্গের ক্যানসার বাড়ছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, ২৫শে আগস্ট ২০২৫

#

বিশ্বব্যাপী পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ব্রাজিলে গত এক দশকে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি পুরুষের অঙ্গচ্ছেদ করতে হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রাজিলে প্রতি এক লাখ পুরুষের মধ্যে ২ দশমিক ১ জনের এই রোগ হয়, যা এ–যাবৎকালে সর্বোচ্চ হার। খবর বিবিসির।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২১ হাজার ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের ক্যানসার হওয়ার খবর নথিভুক্ত হয়েছে। এতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর গত এক দশকে গড়ে প্রতি দুই দিনে একজনের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে। সংখ্যায় যা ৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি।

ব্রাজিলের সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য মারানহাও। বিশ্বব্যাপী পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে সর্বোচ্চ আক্রান্তের হার এই রাজ্যে বেশি। এখানে প্রতি এক লাখ পুরুষের মধ্যে ৬ দশমিক ১ জন পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্ত। পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের লক্ষণ শুরু হয় একটি ঘা দিয়ে। যা কিছুতেই নিরাময় হয় না এবং ওই ঘা থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত স্রাব বের হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে রক্তপাত হয় এবং পুরুষাঙ্গের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়।

এই ক্যানসার প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষত অপসারণ, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার ভালো সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে পুরুষাঙ্গের আংশিক বা সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ এবং আশপাশের যেমন অণ্ডকোষও কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রাজিলিয়ান সোসাইটি অব ইউরোলজির চিকিৎসক মাউরিসিও ডেনার কর্ডেইরো বিবিসিকে বলেছেন, যৌন ভাইরাস হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইচপিভি) ক্রমাগত সংক্রমণ এই রোগের ঝুঁকির প্রধান একটি কারণ। শারীরিক সংসর্গের সময় এইচপিভি সংক্রমণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মুখ ও পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

মাউরিসিও ডেনার কর্ডেইরো বলেন, সংক্রমণ ও ক্ষত প্রতিরোধে এইচপিভির বিরুদ্ধে গণটিকা দরকার। ব্রাজিলে এই টিকা দেওয়ার হার অনেক কম। ‘ব্রাজিলে ভ্যাকসিন সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার হার কম, মাত্র ৫৭ শতাংশ। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশের বেশি নয়। রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেওয়ার আদর্শ হার হলো ৯০ শতাংশ।’

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাউরিসিও বিশ্বাস করেন, টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য, এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ভিত্তিহীন সন্দেহ এবং টিকার প্রচারের অভাবে মানুষ সচেতন নয়, টিকা কম নিচ্ছে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ওয়েবসাইট অনুসারে, ধূমপান পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পুরুষাঙ্গ পরিষ্কার রাখতে অগ্রভাগের চামড়া (পুরুষাঙ্গ আচ্ছাদিত ত্বক) যদি টানতে সমস্যা হয় (ফিমোসিস), তাহলে পুরুষাঙ্গের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।’

চিকিৎসক মাউরিসিও বলেন, ‘মানুষ যখন পুরুষাঙ্গের আচ্ছাদিত ত্বক উন্মুক্ত করে না এবং সঠিকভাবে সামনের চামড়া পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়, তখন এটি থেকে একধরনের ক্ষরণ হয়। ওই ক্ষরণ চামড়ার ভেতর জমা হয়। যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। আর যদি এটা বারবার ঘটে, তবে টিউমার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’

তবে শুধু ব্রাজিলে পুরুষাঙ্গের ক্যানসার বাড়ছে তা নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, বিশ্বজুড়ে এই ক্যানসারে আক্রান্তের পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৩ সালে জেএমআইআর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড সার্ভিল্যান্স জার্নাল ৪৩টি দেশের সর্বশেষ তথ্যসংবলিত একটি বড় মাপের বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে।

এই ফলাফলে দেখা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্তের সর্বোচ্চ ঘটনা পাওয়া গেছে উগান্ডায়। ওই সময় দেশটিতে প্রতি ১ লাখ পুরুষের মধ্যে ২ দশমিক ২ জন এই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। এর পরের অবস্থানে ছিল ব্রাজিল, প্রতি ১ লাখ পুরুষের মধ্যে ২ দশমিক ১ জন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ১ লাখ পুরুষের মধ্যে ১ দশমিক ৪ জন এই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। আর সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল কুয়েত, এই দেশে প্রতি ১ লাখ পুরুষের মধ্যে শূন্য দশমিক ১ জন এই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।

চীনের সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেইওয়েন ফু ও তিয়ান তিয়ানের নেতৃত্বে একদল গবেষক গবেষণাটি করেছেন। তারা বলেছেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনো পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের উচ্চ প্রকোপ ও মৃত্যুর হার বেশি হরেও বেশির ভাগ ইউরোপীয় দেশে এ ঘটনা বাড়ছে।’

গবেষকেরা বলেছেন, ইংল্যান্ডে পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্তের হার বেড়েছে। ১৯৭৯ থেকে ২০০৯ সালে প্রতি ১ লাখ পুরুষের মধ্যে ১ দশমিক ১ জন থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। জার্মানিতে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে ১৯৬১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে প্রতি ১ লাখ পুরুষের মধ্যে ১ দশমিক ২ জন থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

গ্লোবাল ক্যানসার রেজিস্ট্রি প্রেডিকশন টুলের তথ্য অনুসারে, এই পরিসংখ্যানগুলো শুধু উচ্চতর ক্যানসার ঝুঁকির কারণে করা হয়েছে। তারা ধারণা করছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের ঘটনা ৭৭ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাবে। মূলত বয়স্ক পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এ ঘটনা ঘটেছে।

চিকিৎসক মাউরিসিও বলেন, ‘পুরুষাঙ্গের ক্যানসার একটি বিরল রোগ। তবে এটি প্রতিরোধযোগ্য।’ তিনি বলেছেন, যৌনাচারের সময় জন্মনিরোধক (কনডম) ব্যবহার করা এবং ফিমোসিসের ক্ষেত্রে অগ্রভাগের ত্বক অপসারণে অস্ত্রোপচার করা পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ফ্রিমলি হেলথ এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ইউরোলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল লিড নিল বারবার বলেছেন, ‘খতনা করানো জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্তের কথা প্রায় শোনা যায় না। দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি এবং পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের নিচে সংক্রমণ, পাশাপাশি ফিমোসিসের মতো অবস্থা যা সামনের চামড়া তুলে নেওয়া কঠিন করে তোলে।’

নিল বারবার বলেন, ‘অরক্ষিত শারীরিক সংসর্গ, বিশেষত কনডম ব্যবহার না করা এবং দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’ ক্যানসার রিসার্চ ইউকের মতে, পুরুষাঙ্গের ক্যানসারে আক্রান্ত ৯০ শতাংশের বেশি পুরুষ, যাদের রোগটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতার অঙ্গ লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েনি, তারা পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকেন।

ক্যানসার যৌনতা পুরুষাঙ্গ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250