ফাইল ছবি
কোনাটি ছিল খুবই সংকীর্ণ, দূরত্বটাও বেশ জটিল। ডানপাশের কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে যখন লিওনেল মেসি ফ্রি-কিক নিতে দাঁড়ালেন, পেনাল্টি বক্সে তখন ডিফেন্ডারদের ভিড়। সবাই ভেবেছিল বক্সে ক্রস ভেসে আসবে, কিন্তু মেসির নজর ছিল সরাসরি গোলপোস্টে।
নিজের সেই চেনা বাঁ পায়ের জাদু ছড়ালেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিখুঁত বাঁক খেয়ে বলটা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে বিঁধল দূরের পোস্টের একদম ওপরের কোণায়। নেটের পাশ ছুঁয়ে জড়িয়ে গেল জালে।
স্কটসমিরাকেল-গ্রো ফিল্ডের গ্যালারি থমকে গেল যেন এক মুহূর্তের জন্য। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল সেই গোলের ভিডিও—মেসির জাদুকরী ফ্রি-কিকের ঝুলিতে যুক্ত হলো আরও একটি মনে রাখার মতো মুহূর্ত।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে জোসেফ মার্তিনেজের পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইন্টার মায়ামি। ঠিক পাঁচ মিনিট পরই আসে মেসির সেই বিধ্বংসী জবাব।
প্রায় অসম্ভব এক কোণ থেকে ৩৯ বছর বয়সী তারকার শটটি ছিল এতটাই নিখুঁত যে গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্ট স্রেফ অসহায় চোখে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি।
মায়ামিকে অবশ্য শেষ পর্যন্ত হার থেকে বাঁচাতে পারেনি এই গোল। তবে নিজের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৩১-এ নিয়ে গেলেন মেসি, যার মধ্যে ৭৬টিই এসেছে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে। ফ্রি-কিকে সর্বকালের সেরা, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি মার্সেলিনহো কারিওকার ৭৮ গোলের রেকর্ডের আরও কাছে এখন তিনি।
তবে ফ্রি-কিকে মেসির এই দক্ষতা রাতারাতি তৈরি হয়নি। ১৮ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে যখন তার অভিষেক হয়, তখন ফ্রি-কিকের দায়িত্ব থাকত রোনালদিনহো, জাভি কিংবা ডেকোর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের কাঁধে।
সহজাত ড্রিবলিং আর ফিনিশিং ক্ষমতা রক্তে থাকলেও ফ্রি-কিককে শিল্পে রূপ দিতে লেগেছে দীর্ঘদিনের সাধনা, অন্তহীন অনুশীলন ও টেকনিকের পরিশীলন। সময়ের পরিক্রমায় মেসি ফ্রি-কিককে তার সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে পরিণত করেছেন—যেখানে নিখুঁত নিশানা, অভাবনীয় সুইং আর গোলরক্ষকের নাগালের বাইরের সবচেয়ে ছোট ফাঁকটুকু খুঁজে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
কলম্বাসের বিপক্ষে আবার দেখা মিলল সেই চিরায়ত মেসিরই। চলতি এমএলএস মৌসুমে এটি ছিল তার ২১তম গোল। একই সঙ্গে আবার মনে করিয়ে দেওয়া—৩৯ বছর বয়সে এসেও গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেওয়া কেবল মেসির পক্ষেই সম্ভব।
খবরটি শেয়ার করুন