শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান *** নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক *** এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব *** রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে *** জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান *** বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ *** ৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে *** মূল আসামিকে আড়াল করায় স্বজনদের ক্ষোভ, জানেন না আপসের বিষয়ও *** জাতিসংঘে শুক্রবার ভোররাত ৩টায় বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী *** বিকাশ, রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

আনন্দবাজার পত্রিকার নিবন্ধ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:৩১ অপরাহ্ন, ১০ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পার্লামেন্ট সদস্য ও বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন। আজ মঙ্গলবার (১০ই মার্চ) নিবন্ধটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ ও অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সুখবর ডটকমের পাঠকদের জন্য নিবন্ধটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসাবে দেখা চলে। নির্বাচনের ফলাফল যে দিকে গিয়েছে, তাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সম্ভাব্য পুনর্গঠনের পথও খোলা সম্ভব। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং টালমাটাল অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ের পরে একটি নির্বাচিত সরকারের উত্থান সে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে; আঞ্চলিক আস্থা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতার উপরে জোর দিয়েছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শাসনকালে বিএনপি-র ভারত সম্বন্ধে অবস্থানের স্মৃতি বর্তমানকে প্রভাবিত করবে না, তেমন নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল। কিন্তু, এটাও মনে রাখতে হবে যে, পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় ইতিহাসের বিপ্রতীপ পথ তৈরি করে দেয়। বর্তমান মুহূর্ত তেমনই একটি সুযোগের সন্ধিক্ষণ কি না, সে দিকে নজর রাখতে হবে।

একবিংশ শতকের গোড়া থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। ভারত আজ এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এবং বৈশ্বিক জোগান-শৃঙ্খলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি-চালিত শক্তি হিসেবেও তার অবস্থান তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বেশ কয়েক বছর দ্রুত আর্থিক বৃদ্ধি অর্জন করার পর বাংলাদেশ এখন আবার অর্থনৈতিক চাপের মুখে।

বৈদেশিক ঋণ প্রায় ১০,০০০ কোটি ডলার; বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার গত চার বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে—২০২১-২২ সালে যা ছিল প্রায় ৪,৬০০ কোটি ডলার, তা ২০২৫-২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২,৯০০ কোটি ডলার। ব্যাংকিং খাতে অনাদায়ি ঋণের পরিমাণও উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতা কেবল কাম্য নয়, অতি প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব কি না, তা নির্ভর করছে বিএনপি কেবল নির্বাচনী সাফল্যের উপরে নির্ভর করবে, না কি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে পারবে, তার উপরে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ৭০টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের বিক্ষোভ থেকে তৈরি হওয়া জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

যদিও তাদের নির্বাচনী ফল প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত, তবুও যুবসমাজের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং তার সম্ভাব্য দিগ্নির্দেশ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। আগামী মাসগুলোতে তাই পরীক্ষা হবে, বিএনপি তার নির্বাচনী সাফল্যকে একটি কার্যকর শাসন-দর্শনে পরিণত করতে পারে কি না।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো—বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে স্থিতিশীল করা, এবং বেকারত্বের হার নিয়ন্ত্রণ—দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অবস্থান যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, সহযোগিতার মাধ্যমে তার অংশ হওয়া বাংলাদেশের নবনির্বাচিত নীতিনির্ধারকদের কাছে বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জ্বালানি সহযোগিতা, আন্তসীমান্ত পরিকাঠামো এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের বিস্তার নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা কেবল একটি কূটনৈতিক লক্ষ্য নয়; এটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংহতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নয়াদিল্লিকেও ঢাকার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে কৌশলগত বাস্তববাদ এবং কূটনৈতিক সংযমের সমন্বয়ে। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপরে নির্ভর না-করে সীমান্তের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক আন্তর্নির্ভরতা এবং যৌথ নিরাপত্তা বিবেচনার উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

সম্পর্ক যখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন আন্তসীমান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা, মৌলবাদবিরোধী প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক সংযোগের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা হিসেবেই থাকবে।

একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন—বাংলাদেশকে কোনো অবস্থাতেই ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের শত্রুতামূলক পরিকল্পনার সহযোগী হতে দেওয়া যায় না।

একই সঙ্গে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আস্থা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতার উপরে প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় আন্তরিক হয়, তা হলে ভারতের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক হবে।

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক

🕒 প্রকাশ: ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব

🕒 প্রকাশ: ১০:২১ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

🕒 প্রকাশ: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

🕒 প্রকাশ: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250