ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ই নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। রায়কে সরকার, দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও অনেক বিশ্লেষক স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ভিন্ন কথাও শোনা যাচ্ছে অনেক বিশ্লেষকের কণ্ঠে। এই রায় নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞেরা।
শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে এর মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। আলাদা বিবৃতিতে মানবাধিকার নিয়ে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
তাদের বক্তব্যকে অনেকটা সমর্থন করছেন কলামিস্ট ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার অপরিহার্য হলেও সেটা পুরনো ট্রাইব্যুনালে করাটা ‘সঠিক ছিল না’ বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, কেউ কেউ এই রায়কে প্রতিশোধমূলক বিচার হিসেবেও মূল্যায়ন করবে। শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ গ্রহণযোগ্য নয়। এখন রায় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠবে।
যুক্তি হিসেবে ফরহাদ মজহার বলেছেন, নতুন ট্রাইব্যুনালে বিচার হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা পেত। কিন্তু এখন রায় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠবে; কেউ কেউ এটাকে প্রতিশোধমূলক বিচার হিসেবেও মূল্যায়ন করবে। রোববার (৩০শে নভেম্বর) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠান ইনসাইড আউটে তিনি এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ফরহাদ মজহার মনে করেন, শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আন্তর্জাতিকভাবে তো ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে এটা আপনি কী করে গ্রহণযোগ্য করবেন? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে ফরহাদ মজহার বলেন, যদি আমার সুযোগ থাকত, তাহলে আমি বলতাম যে, একই ট্রাইব্যুনাল করাটা সঠিক ছিল না; করা উচিত ছিল ভিন্ন ট্রাইব্যুনাল। তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর।
শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় কী কী সমস্যা তৈরি হতে পারে, তার একটি ধারণা দেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, “সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে। কারণ এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বলবে যে, এটা একটা প্রতিশোধ হয়েছে। তো আমি তো এটা শুনতে চাই না। আমি তো শেখ হাসিনাকে, সত্যিকার অর্থে যিনি একজন ফ্যাসিস্ট, তিনি যেসব অন্যায় করেছেন, অবিচার করেছেন, তাকে আমি শুধু ফাঁসি দিয়ে তো ক্ষান্ত হতে চাই না। তিনি কী কী করেছেন, অবশ্যই সেসব প্রমাণ চাই।”
তিনি বলেন, এই যে শুরুতে বলেছি, নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যখন শুরু হতো, তখন অবশ্যই নতুন আদালত তৈরি হতো। ফলে নতুন আদালতে যখন আপনি যেতেন, সে আদালতে আন্তর্জাতিক যেসব বিধান, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে আপনি বিচারটা করতেন। এটা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতো।
তিনি বলেন, এজন্য আমরা ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলেশন কাউন্সিল চেয়েছিলাম। কিন্তু ড. ইউনূস (প্রধান উপদেষ্টা) এটা করেন নাই। কারণ যদি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলেশন কাউন্সিল হতো, তাহলে আপনি কী করতেন? আজ যারা শেখ হাসিনার হুকুমে অপরাধ করেছেন, এদের কিন্তু পাপটা লঘু হতো। সত্যিকার যে পাপী, তাকে কিন্তু আপনি পেতেন।
খবরটি শেয়ার করুন