রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** শেখ হাসিনা ফিরলে দেশে আত্মগোপনে থাকা সাবেক এমপিদের অবস্থান কী হবে, জানালেন নেত্রীকে *** গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা ছিল, এখন নেই: জ্বালানিমন্ত্রী *** নেপালে বন্যার এক মাস: এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার *** বাংলা-ইংরেজি না জানা শুকি কীভাবে হামজাদের সঙ্গে কথা বলেন *** অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের সামনেই প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হেনস্তার চেষ্টা *** মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর *** ‘সমাজ এখনো নারীকে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়’ *** জাসদ কার্যালয়ে দিনভর যা ঘটল, নেপথ্যে কী *** কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতার মিছিলে ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ রতন, ভিডিও ভাইরালের পর সমালোচনা

এক পায়ে ভর দিয়ে জীবনযুদ্ধে আরাফাত

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, ১১ই জুলাই ২০২৫

#

ক্রাচে ভর দিয়ে চলছেন আরাফাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে এক পা হারিয়েছেন পাবনার আরাফাত হোসেন। এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকারের পতন হয়েছে। এতে খুশি হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক পা নিয়েই তাকে নামতে হয়েছে জীবনযুদ্ধে। ভবিষ্যৎ চিন্তায় দিশেহারা এখন তার পরিবার।

পাবনা সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও কোমেলা খাতুন দম্পতির সন্তান আরাফাত হোসেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে এক ব্যবসায়ীর প্রাইভেট কারচালক হিসেবে চাকরি নেন ঢাকার উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরে। ওই বছরের ১৮ই জুলাই সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনরত ছাত্ররা উত্তরার প্রধান সড়কে জমায়েত হন। সেই আন্দোলনে যোগ দেন তিনি।

আলাপকালে আরাফাত বলেন, ‘সারাদিন থেমে থেমে আন্দোলন চলে। একপর্যায়ে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে পুলিশ। কখন যে আমার বাম পায়ে একটা গুলি লেগেছিল টেরই পাইনি। পরে দৌড়াতে গিয়ে দেখি আমার বাম পা ওঠে না। তাকিয়ে দেখি রক্তে ভেসে যাচ্ছে পা।’

বলেন, ‘সেখান থেকে ছাত্র ভাইদের সহযোগিতায় আমাকে উদ্ধার করে আমার খালাতো ভাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভর্তির জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল আর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে। শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যায়নি গুলিবিদ্ধ বাম পা। পরে চিকিৎসক জানান আমার পায়ের পেশি মারা গেছে, রাখা সম্ভব নয়। তারপর ২১শে জুলাই চিকিৎসক অপারেশন করে আমার পা কেটে দেয়। সেখানে ২১শে আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলাম। এরপর ব্র্যাক থেকে আমাকে আর্টিফিশিয়াল পা লাগিয়ে দেওয়া হয়।’

বাড়ি ফিরে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় একটি মুদি দোকান দিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছেন আরাফাত। ভেবেছিলেন বাবা-মা, ভাইবোনসহ পুরো পরিবারের দায়িত্ব সামলাবেন। তবে সেই স্বপ্ন এখন তার কাছে দুঃস্বপ্ন। আরাফাত জানান, ক্রাচে ভর দিয়ে এত দায়িত্ব সামাল দিতে পারছেন না তিনি।

আরাফাতের মা কোমেলা খাতুন বলেন, ‘একটা পা ছাড়া একটা মানুষ কতটা শান্তিতে চলাফেরা করতে পারে বলেন? ছেলেটা যখন লাফিয়ে লাফিয়ে যায়, তখন বুকটা ফেটে যায়। মা হিসেবে দেখতে পারি না।’

আরাফাতের বাবা কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সামান্য কিছু জমি আছে, সেগুলো কিছু চাষাবাদ করি। বয়স হয়ে গেছে। আগের মতো কাজকামও করতে পারি না। ছেলেটার মুদি দোকান থেকেই-বা কয় টাকা কামাই হয়। তাই দিয়ে নুন ভাত খেয়ে চলতে হচ্ছে।’

আরাফাতের স্ত্রী তানজিলা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী দেশের জন্য পা হারিয়েছে, এটা আমার কাছে গর্বের। অন্যদিকে তা কষ্টেরও। এখন আমাদের জীবন কীভাবে চলবে! গ্রামের মধ্যে মুদি দোকানে খুব একটা বেচাকেনাও হয় না। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, তাকে কীভাবে মানুষ করব—এই চিন্তায় ঘুম হয় না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250