শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** হুতিদের ড্রোন হামলা, গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল সৌদি আরব *** ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে আসলে কাকে রূপার ছেলে বলা হলো? *** শেষকৃত্যের আগে পুলক চ্যাটার্জির পাওনা কি পরিশোধ করবে সমকাল? *** সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির আত্মহনন, লিখে গেছেন ৫ চিঠি *** বরিশালে পত্রিকা কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ *** ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ইসরায়েলের গোপন পদ্ধতি কী, প্রামাণ্যচিত্রে যা উঠে এসেছে *** দাফন নাকি দাহ, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা–বাবার টানাটানিতে হিমঘরে লাশ *** দিল্লি সফরে রাশিয়া থেকে ‘দুর্গসম’ লিমুজিন এনেছেন পুতিন, এর বৈশিষ্ট্য কী *** আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে *** ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

কবি রফিক আজাদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি যে কারণে আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫২ অপরাহ্ন, ১৬ই এপ্রিল ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ঘুরছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রখ্যাত কবি রফিক আজাদের ছবিসংবলিত একটি বাড়ি; যেখানে তিনি ২৯ বছর ধরে বসবাস করেছেন। দারুণ সব কবিতা লিখেছেন। আছে তার দিনযাপনের স্মৃতি। সেই বাড়ির পাশের একটি অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আজ বুধবার (১৬ই এপ্রিল) সকালে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবির ভক্তরা এ নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। বিস্তারিত জানতে কবিপত্নী দিলারা হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, বাড়িটিতে চারটি ইউনিট। এর একটিতে থাকছেন কবির স্ত্রী দিলারা হাফিজ। বাকি তিন ইউনিট অন্যদের নামে বরাদ্দ। বাড়িটির পূর্ব দিকের দুটি ইউনিট ভেঙে ফেলা হয়েছে।

দিলারা হাফিজ জানান, ১৯৮৮ সালে একতলা বাড়িটি তার নামে সাময়িকভাবে বরাদ্দ দেয় ‘এস্টেট অফিস’। দিলারা হাফিজ তখন ইডেন মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বরাদ্দনামায় উল্লেখ রয়েছে, এ বরাদ্দের মাধ্যমে বাসার ওপর তার কোনো অধিকার বর্তাবে না, তবে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বসবাস করতে পারবেন।

কিন্তু ২০১২ সালে বাড়িটি নিজের বলে দাবি করেন সৈয়দ নেহাল আহাদ নামের এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সৈয়দ নেহাল, হাউজিং অ্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করে মামলা করেন দিলারা হাফিজ। আদালত বাড়িটির ওপর স্থিতাবস্থা দেন। পরের বছর এ  স্থিতাবস্থা স্থায়ী করেন আদালত।

আগামী মে মাসের ২৫ তারিখ এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছেন দিলারা হাফিজ। আজ সকালে বাড়িটি উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়।

দিলারা হাফিজ জানান, তাকে বাড়ি ছাড়ার লিখিত কোনো নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মৌখিকভাবে কয়েক দিনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাড়ির একাংশ ভাঙার কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন। থাকার আর উপায় থাকল না।

এ বাড়িতে তার স্বামী কবি রফিক আজাদের স্মৃতি রয়েছে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও ধারণের জন্য বাড়িটির অংশবিশেষের স্থায়ী বন্দোবস্তের আদেশ পেতে গতকালও তিনি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবির ভক্ত ও সুহৃদরা কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

এইচ.এস/

রফিক আজাদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250