ফাইল ছবি
সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ তখন সাড়ে চার বছরের শিশু। এখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু বাবা-মায়ের হত্যার পর তার জীবনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে একটি নতুন প্রশ্ন। ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ অসুস্থ সাংবাদিক ফারজানা রূপার সঙ্গে তার দুই সন্তানের সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত সেই অনুমতি দেন। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, রূপার ‘এক ছেলে ও এক মেয়ে’ তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিষয়টি প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন। তার প্রশ্ন, ফারজানা রূপার নিজের ছেলে না থাকলেও আদালতে উল্লেখ করা ‘এক ছেলে’ কে? সেই ছেলে কি সাগর–রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়। আদালতের প্রকাশিত তথ্যেও মেঘের নাম নেই। কিন্তু প্রশ্নটি সামনে আসার পর সাগর–রুনি হত্যার পর মেঘের জীবন ঘিরে তৈরি হওয়া পুরোনো সম্পর্ক, অভিভাবকত্বের বিরোধ এবং ফারজানা রূপার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হেলাল উদ্দিন একই দিনে দেওয়া তার আরেকটি পোস্টে লিখেছেন—“কারাগারে আটক সাংবাদিক ফারজানা রূপার নিজের ছেলে নেই—তাহলে আদালতে তার ‘এক ছেলে’ হিসেবে কাকে উপস্থাপন করা হলো? সেই ছেলে কি সাগর–রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ? এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ অসুস্থ ফারজানা রূপার সঙ্গে তার সন্তানদের সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়। তার আইনজীবী আদালতকে জানান, রূপার ‘এক ছেলে ও এক মেয়ে’ মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। কিন্তু প্রকাশিত কোনো সংবাদেই সেই ছেলে-মেয়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এখানেই রহস্য।”
এই আদালত-ঘটনার আগে অবশ্য মেঘের সঙ্গে ফারজানা রূপার সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা খুব বেশি ছিল না। তবে হেলাল উদ্দিনের সাম্প্রতিক আরেকটি পোস্ট এবং সেখানে দুই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মন্তব্যে সেই সম্পর্কের একটি দীর্ঘ ইতিহাসের কথা সামনে এসেছে। হেলাল উদ্দিন তার প্রথম পোস্টে লিখেছেন—“সাগর–রুনি হত্যার পর ছোট্ট মেঘকে ঘিরে হঠাৎ এমন কী ঘটেছিল, যার ফলে বাবার পরিবার ও মায়ের অকৃত্রিম ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিটকে গেলেন? কেন আগে পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত না থাকা এক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সাংবাদিক দম্পতি হয়ে উঠলেন তার অন্যতম অভিভাবক? হত্যাকাণ্ডের পর সাগরের মা তার একমাত্র আদরের নাতি মেঘকে নিজের কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে আকুতি জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থও হয়ে পড়েন। মেঘের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি চেয়েছিলেন অকালে হারানো নিজের সন্তানের ছায়া খুঁজে নিয়ে বেঁচে থাকতে।
কিন্তু রুনির মা ও পরিবারের সদস্যরা সাগরের মাকে সেই সুযোগটুকু দেননি। মেঘকে ঘিরে তৈরি হয় এক দুর্ভেদ্য আড়াল। রুনির পরিবারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে আপন দাদি নাতিকে কাছে পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ছোট্ট শিশুটিকে রাখা হয় একপ্রকার রহস্যজনক আইসোলেশনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেঘ কার ছায়াতলে গিয়ে পৌঁছাল? কোনো রক্তের আত্মীয় নয়; বরং পরিবারের বাইরের সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও তার স্বামী শাকিল আহমেদের সঙ্গে মেঘের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হলো। যেখানে আপন দাদি আর মায়ের আজীবনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধারা পাশে থাকতে পারলেন না, সেখানে কেন এই প্রভাবশালী সাংবাদিক দম্পতি মেঘের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আজও পুরো ট্র্যাজেডির সবচেয়ে অন্ধকার রহস্যগুলোর একটি।”
তবে এই বর্ণনার সব তথ্যের সঙ্গে প্রকাশিত নথি বা সংবাদপ্রতিবেদনের সরাসরি মিল রয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করেনি সুখবর ডটকম। কারণ মেঘের শৈশব ও অভিভাবকত্ব নিয়ে অতীতেও নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের পোস্টে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সাংবাদিক নাদিরা কিরণ মেঘের মানসিক সুস্থতার জন্য অনেক সময় দিতেন। পুলিশ পাহারায় তাকে বিভিন্ন খাবারের দোকান ও বিপণিবিতানে নিয়ে যেতেন। উদ্দেশ্য ছিল বাবা-মাকে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।
হেলালের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ফারজানা রূপার রুনির বাসায় যাতায়াত বাড়ে। একই সময়ে রুনির ভাই নওশের আলম রোমানের সঙ্গে রূপার ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। নাদিরা কিরণের সঙ্গে রোমানের দূরত্ব তৈরি হয়।
এই দূরত্বের পেছনে চাকরি-সংক্রান্ত একটি ঘটনার কথাও হেলাল উদ্দিন তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন। এটিএন বাংলার তৎকালীন চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান রুনিকে নিয়ে বিদেশে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রোমান নাদিরা কিরণকে চাকরি ছাড়ার কথা বলেছিলেন বলে পোস্টে বলা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাদিরা কিরণ তা মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি ওই পরিবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু ফারজানা রূপার সঙ্গে মেঘের ঘনিষ্ঠতার কারণ সম্পর্কে নাদিরা কিরণের নিজের মন্তব্যও রয়েছে। হেলাল উদ্দিনের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি লিখেছেন—“রুপা- শাকিলের সাথে মেঘের ঘনিষ্ঠতা বাড়ার ক্ষেত্রে প্রথমে এ ঘটনার প্রুফ মেঘের কাছ থেকে বের করা। দ্বিতীয়ত আলোচিত মর্মান্তিক এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার মাধ্যমে আলোচনায় থাকা এটা হতে পারে। এরকম একটি ঘটনায় সরকার পক্ষেরও নজরে আসার বিষয় বড় জোর হতে পারে। এক্ষেত্রে এর বেশি ইনটেনশন আমার মনে হয়নি। আপনার সাথে কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমার বলা কথাগুলোতে রুপাকে এ ঘটনায় দোষারোপ করছি কিনা এমনটা অনেকে ভাবতে পারে ভাই।”
নাদিরা কিরণের এই বক্তব্যকে ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি নিজেই বলেছেন, তার বক্তব্যকে অনেকে ভুলভাবে বুঝতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য কিছু কারণের কথা বলেছেন, তবে এর বেশি কোনো উদ্দেশ্য তার মনে হয়নি বলেও জানিয়েছেন। এরপর আলোচনায় আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।
হেলাল উদ্দিনের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সঞ্চিতা সীতু লিখেছে—“রূপা আপা রুনি আপার বান্ধবী ছিলেন মেঘ হবার আগে থেকেই। এটা আমি সাগর ভাইয়ের আম্মার কাছ থেকেই শুনেছি। বিয়ের পর পর যখন সাগর ভাই , রুনি আপা খালাম্মার সাথে এক বাড়িতে ছিলেন তখন রুপা আপার ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিল। ফলে রূপা আপা একেবারে উড়ে এসেছেন বলে আমার মনে হয় না। আপনি এটা যাচাই করতে চাইলে খালাম্মাকে অথাৎ সাগর ভাইয়ের আম্মাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমি উনাদের খুব ঘনিষ্ঠভাবে চিনতাম না। কিন্তু একই বিষয়ে অথাৎ জ্বালানি বিট করার কারণে দুইজনেই যথেষ্ট পরিচিত ছিলেন। আবার উনারা মারা যাবার পর দুই বাড়িতেই আমি গিয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি গিয়েছি খালাম্মার কাছে। খালাম্মার এই কষ্টের কথাগুলো সত্যিই। তিনি চাইতেন তার নাতি তার কাছে থাকুক। এ নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। অনেকবার বসাও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেঘ মামার কাছেই রয়ে গেছে।”
সঞ্চিতা সীতুর এই বক্তব্য নাদিরা কিরণের বক্তব্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভিন্ন। নাদিরা কিরণ প্রশ্ন তুলেছেন, রূপা কখনো সাগর–রুনির পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন কি না। আর সঞ্চিতা সীতু বলছেন, রূপা রুনির পুরোনো বান্ধবী ছিলেন এবং মেঘ জন্মের আগেই তাদের সম্পর্ক ছিল।
সাগরের মাকে ঘিরে সঞ্চিতা সীতুর মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, সাগরের মা নাতিকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে বহুবার আলোচনা ও বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেঘ তার মামার কাছেই ছিলেন। অভিভাবকত্বের এই টানাপোড়েনের কথা অতীতের প্রকাশিত সংবাদেও এসেছে। মেঘকে নিয়ে দাদি ও নানির পরিবারের মধ্যে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে নানির পরিবারেই মেঘের দেখাশোনা চলেছে—এমন তথ্যও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।
হেলাল উদ্দিনের দ্বিতীয় পোস্টে মেঘের সঙ্গে রূপার পরিবারের সম্পর্কের আরও কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার কাছে তথ্য দেওয়া এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ভাষ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ফারজানা রূপার মেয়ে মনফুল ও মেঘ ছোটবেলা থেকেই সহপাঠী ছিল। তারা ধানমন্ডির আনন্দ নিকেতন স্কুলে পড়ত। পরে মেঘকেও একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয় বলে ওই সাংবাদিকের দাবি। ওই সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুল শেষে মেঘ রূপার বাসায় থাকত। রাতে মামা রোমান এসে তাকে নিয়ে যেতেন।
হেলাল উদ্দিনের দ্বিতীয় পোস্টে আরও বলা হয়েছে, মেঘ ফারজানা রূপাকে ‘মা’ বলে ডাকত—এমন দাবি ওই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক করেছেন। হেলাল উদ্দিন নিজেও লিখেছেন—“এটিও কেবল তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা বা না করা দিয়ে কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি প্রমাণ করা যায় না। কিন্তু পুরো ঘটনাপ্রবাহের অংশ হিসেবে তথ্যটি উল্লেখযোগ্য।” এখানে এসে মূল প্রশ্নটি আবার সামনে আসে। ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে রূপার ‘এক ছেলে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছিল?
যদি তিনি মেঘ না হন, তাহলে প্রশ্নটির উত্তর সহজ। রূপার অন্য কোনো ছেলে থাকলে তার পরিচয় সংশ্লিষ্ট পরিবার বা আদালতের নথি থেকেই পরিষ্কার করা সম্ভব। কিন্তু যদি তিনি মেঘ হয়ে থাকেন, তাহলে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
মেঘ কি কখনো আইনগতভাবে ফারজানা রূপার অভিভাবকত্বে ছিলেন? ২০১৯ সালের অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত মামলায় আদালতের চূড়ান্ত আদেশ কী ছিল? আর ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া আবেদনে রূপার দুই সন্তানের পরিচয় কীভাবে লেখা হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আদালতের নথি ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
হেলাল উদ্দিনও তার পোস্টের শেষদিকে কোনো সিদ্ধান্ত না টেনে নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন—“আমি কোনো সিদ্ধান্ত টানছি না। বরং আদালতের নথি প্রকাশের দাবি করছি। কারণ সাগর–রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ যদি সত্যিই আদালতে অন্য একজনের ‘ছেলে’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে সেটি ঘটল—এই প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে আসা উচিত।”
এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ফারজানা রূপার সঙ্গে মেঘের ঘনিষ্ঠতা থাকলে সেটি নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। কাউকে দীর্ঘদিন দেখাশোনা করা কিংবা সন্তানের মতো ভালোবাসাও বেআইনি কিছু নয়। একইভাবে মেঘ ফারজানা রূপাকে ‘মা’ বলে ডাকলেও সেটি আইনগত মাতৃত্বের প্রমাণ নয়। তাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আবেগ নয়, নথিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সাগর–রুনি হত্যার তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ২০২৫ সালে সাগর–রুনি হত্যা মামলায় ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্তের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম আলো জানিয়েছিল, তদন্তে রুনির সঙ্গে রূপার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এখন মেঘকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর বের করার আগে কাউকে সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। প্রথমে জানা দরকার, আদালতে ৩ সেপ্টেম্বরের আবেদনে ‘এক ছেলে’ বলতে আসলে কাকে বোঝানো হয়েছিল। তারপর দেখা দরকার, মেঘের সঙ্গে ফারজানা রূপার সম্পর্কের আইনগত ও পারিবারিক অবস্থান কী ছিল।
আর সবশেষে দেখা দরকার, সাগর–রুনি হত্যার পর মেঘকে ঘিরে পরিবারের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতদিন আড়ালে রয়ে গেছে কি না।
এই প্রতিবেদনে হেলাল উদ্দিন, নাদিরা কিরণ ও সঞ্চিতা সীতুর বক্তব্য নতুন করে নেওয়া হয়নি। কারণ তাদের পোস্ট ও মন্তব্য সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। মেঘও এখন প্রাপ্তবয়স্ক। তবে উন্মুক্ত বক্তব্য মানেই সেগুলো প্রমাণিত সত্য নয়। সাগর–রুনি হত্যার সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে সেই যাচাই হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত একজন সাংবাদিকের সন্তানকে নিয়ে নয়। প্রশ্নটি হলো—একটি হত্যাকাণ্ডের পর একমাত্র সন্তানটির জীবনকে ঘিরে আসলে কী ঘটেছিল? আর ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে রূপার ‘এক ছেলে’ হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাকে বোঝানো হয়েছিল—তার উত্তর হয়তো সেই দীর্ঘ অমীমাংসিত অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাগর-রুনি ফারজানা রূপা শাকিল আহমেদ নাদিরা কিরণ হেলাল উদ্দিন সঞ্চিতা সীতু
খবরটি শেয়ার করুন