শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান *** নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক *** এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব *** রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে *** জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান *** বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ *** ৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে *** মূল আসামিকে আড়াল করায় স্বজনদের ক্ষোভ, জানেন না আপসের বিষয়ও *** জাতিসংঘে শুক্রবার ভোররাত ৩টায় বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী *** বিকাশ, রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

সুখবর এক্সপ্লেইনার

এনটিএমসির জন্য ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম: নিরাপত্তা, নাকি নজরদারির জন্য?

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৫:২৮ অপরাহ্ন, ২৯শে মে ২০২৬

#

সরকার ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৯৫ কোটি টাকার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে অনুমোদিত এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের ডিজিটাল নজরদারি কাঠামো, নাগরিক গোপনীয়তা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার হামলা, জঙ্গিবাদী প্রচারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে মানবাধিকারকর্মী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, অতীতে আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এনটিএমসির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হলে তা নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ (পর্যায়-১)’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল, দুটি মাল্টি-ফাংশনাল হাইব্রিড প্যাকেট ব্রোকার, তিনটি সুইচ ম্যানেজমেন্ট কার্ড এবং ছয়টি আংশিক সংযুক্ত ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনা হবে। সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পরিচালিত এই প্রকল্পে নির্বাচিত হয়েছে ঢাকার গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল ও প্যাকেট ব্রোকারের মতো সরঞ্জাম সাধারণত নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক বিশ্লেষণ, ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্তকরণ এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। ফলে কেবল সরঞ্জাম কেনার বিষয়টিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এনটিএমসির অতীত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অবৈধ নজরদারি, টেলিফোনে আড়ি পাতা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্ত খুব কমই সামনে এসেছে, তবু সংস্থাটির প্রতি জনআস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নীতিবিষয়ক গবেষকদের মতে, আধুনিক রাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি নাগরিকের গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহি ও স্বাধীন তদারকির ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।

এই বিতর্ক নতুন নয়। গত বছরের শেষ দিকে ৯৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক এনটিএমসি বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবৈধ নজরদারির অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের আশঙ্কা ছিল, নাম পরিবর্তন বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে একই ধরনের নজরদারি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হতে পারে।

ওই সময় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়ায় এনটিএমসি বিলুপ্তির প্রস্তাব আলোচনায় এসেছিল। পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। বরং আইন সংশোধনের বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারি কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন সংস্থা কী ধরনের ক্ষমতা পাবে এবং তদারকি ব্যবস্থার কাঠামো কেমন হবে—এসব প্রশ্ন সামনে আসে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত আইনি কাঠামোয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরে নতুন সরকার সেই আইন আরও সংশোধন করে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োগ ও জবাবদিহির কাঠামোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কাগজে-কলমে সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।

দেশে ইন্টারনেট বন্ধ বা সীমিত করার ঘটনা নিয়েও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে মোবাইল ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার যদি সত্যিই কেবল সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়, তাহলে সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি ব্যবহারের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রকাশ করা উচিত। কোন পরিস্থিতিতে নজরদারি করা যাবে, কার অনুমোদনে করা যাবে, কতদিন তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা কী হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

সাবেক টেলিযোগাযোগ নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন, এনটিএমসির মতো সংস্থার অস্তিত্ব পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের বহু দেশে জাতীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার জন্য বিশেষায়িত মনিটরিং সংস্থা রয়েছে। কিন্তু পার্থক্য তৈরি হয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থায়। সংসদীয় তদারকি, বিচারিক অনুমোদন এবং স্বাধীন নিরীক্ষা থাকলে জনআস্থা বাড়ে; না থাকলে সন্দেহ ও বিতর্ক বাড়তে থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ৯৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তি ক্রয় কার্যক্রম নয়; এটি দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। একদিকে রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারের যুক্তি, অন্যদিকে রয়েছে নাগরিক স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা রক্ষার দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত প্রশ্ন সরঞ্জাম কেনা নয়, বরং সেই সরঞ্জাম কী উদ্দেশ্যে এবং কোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে ব্যবহৃত হবে। যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীন তদারকি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে কেবল নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো হলে জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়বে।

ফলে এনটিএমসির জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্তকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা কেবল একটি সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, ডিজিটাল স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

এনটিএমসি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক

🕒 প্রকাশ: ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব

🕒 প্রকাশ: ১০:২১ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

🕒 প্রকাশ: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

🕒 প্রকাশ: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250