রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ *** তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি *** জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান *** মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের *** আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক: উগ্রবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে *** কেরানীগঞ্জে থানার সামনে ট্রাকে আগুন, আব্দুল্লাহপুরে ককটেল বিস্ফোরণ *** রাজধানীর মিরপুর ও মধ্যবাড্ডায় ৩ বাসে অগ্নিসংযোগ, যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ *** ‘আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদার ড. ইউনূস’ *** শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগেই সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামলে ক্ষতি—ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রমাণ নেই

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৫ অপরাহ্ন, ১৭ই জানুয়ারী ২০২৬

#

প্রতীকী ছবি

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত।

সে সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অনেকে অবস্থান নিলেও শক্ত কোনো প্রমাণ ছিল না। এবার গবেষণার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা জানালেন, ট্রাম্পের এই দাবির কোনো প্রমাণ নেই। তথ্যসূত্র: বিবিসি।

বিজ্ঞান ও গবেষণাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে গবেষণাটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের ‘আশ্বস্ত বোধ’ করা উচিত। গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণ নিরাপদ এবং এটি শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা অন্য কোনো বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

‘দ্য ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস, গাইনোকোলজি অ্যান্ড উইমেনস হেলথ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ৪৩টি স্টাডি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই গবেষণার অংশ হিসেবে গর্ভধারণ করা অবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণ করেছিলেন এবং করেননি এমন লাখ লাখ নারীকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো দাবি করছেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের বিষয়ে ‘অনেক বিশেষজ্ঞ’ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

প্যারাসিটামল বা এর ব্র্যান্ড সংস্করণ ‘টাইলেনল’ গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রধান ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধ সেবনের সঙ্গে শিশুদের অটিজমের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রশাসন। তাদের এই দাবি বিশ্বজুড়ে অনেক চিকিৎসককে হতবাক করেছিল।

তাদের এই দাবিগুলোর ফলে নারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে নতুন এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

গবেষকেরা জানান, ভাইবোনদের ওপর করা উচ্চমানের এই গবেষণাগুলোর কারণে জিনগত পার্থক্য এবং পারিবারিক পরিবেশের মতো অন্য প্রভাবকগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যা এই পর্যালোচনাটিকে একটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা অনন্য মানদণ্ডে উন্নীত করেছে।

এই গবেষণায় এমন গবেষণাগুলো থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে পক্ষপাতের ঝুঁকি কম এবং শিশুদের পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যাতে প্যারাসিটামল ব্যবহারের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করা যায়।

গবেষণার প্রধান লেখক ও কনসালট্যান্ট প্রসূতিবিদ অধ্যাপক আসমা খলিল বিবিসিকে বলেন, ‘বিশ্লেষণটি করার পর আমরা কোনো ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পাইনি। কোনো সম্পর্ক নেই, এমন কোনো প্রমাণও নেই যে প্যারাসিটামল অটিজমের ঝুঁকি বাড়ায়।’

আসমা খলিল আরও বলেন, ‘বার্তাটি স্পষ্ট, নির্দেশনা মেনে সেবন করা হলে গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল এখনো একটি নিরাপদ বিকল্প।’

এই গবেষণার ফলাফল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান চিকিৎসা সংস্থাগুলোর দেওয়া নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সাধারণ এই ব্যথানাশকের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে।

পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, অতীতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অটিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধির যে সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল, তা সম্ভবত অন্য কারণের (জিন বা পরিবেশ) ফল। তা প্যারাসিটামলের সরাসরি প্রভাবের কারণে নয়।

সিটি সেন্ট জর্জ’স, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাতৃ ও ভ্রূণ চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক আসমা খলিল বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্যথা বা জ্বরের উপশম হিসেবে গর্ভবতী নারীদের আমরা যেসব ওষুধ সুপারিশ করি, তার মধ্যে প্রথম সারিতে থাকে প্যারাসিটামল।’

স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় জ্বর বেশি হলে বা ব্যথা উপশমের জন্য প্যারাসিটামল গ্রহণ না করলে নারী এবং অনাগত সন্তানের ঝুঁকি থাকে। এটি গর্ভপাত, অকাল জন্ম বা শিশুর বিকাশজনিত সমস্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষণায় যুক্ত নন, এমন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও এই গবেষণার ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে গর্ভবতী নারীদের অকারণ উদ্বেগ কমবে।

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক গ্রেইন ম্যাকঅ্যালোনান বলেন, ‘মাথাব্যথায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি ওষুধও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে কি না, এ নিয়ে মানসিক চাপে গর্ভবতী নারীদের আর ভুগতে হবে না।’ এই গবেষণাটি বিতর্কের অবসান ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ইয়ান ডগলাস জানান, এই পর্যালোচনাটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালিত হয়েছে। কারণ, এতে নিম্নমানের গবেষণাগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্যারাসিটামল ব্যবহারকারী এবং অব্যবহারকারী মায়েদের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো (যেমন অন্তর্নিহিত অসুস্থতা) বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার নিউরোসায়েন্টিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট অধ্যাপক জান হাভিক বলেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের সঙ্গে অটিজম, এডিএইচডি বা বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই, এ বিষয়ের পক্ষে ‘জোরালো প্রমাণ’ এই গবেষণাটি। এই প্রশ্নের কার্যত অবসান ঘটানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে কাজ করা বিজ্ঞানীদের মতে, অটিজম হলো জেনেটিক এবং পরিবেশগতসহ বিভিন্ন জটিল কারণের সংমিশ্রণ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) এক মুখপাত্র বলেন, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেনের (যুক্তরাষ্ট্রে প্যারাসিটামলের নাম) ব্যবহার নিয়ে ‘অনেক বিশেষজ্ঞ’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের আগস্টে হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ডক্টর অ্যান্ড্রু ব্যাকারেলির নেতৃত্বে করা একটি পর্যালোচনার কথা। সেখানে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহার শিশুদের অটিজম এবং এডিএইচডির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ওই পর্যালোচনায় বিশেষ করে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় বা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার’ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এর কয়েক মাস আগে, স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র অটিজম কেস বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে ওভাল অফিসে এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গর্ভবতী নারীদের এই ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব না করার পরামর্শ দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ) চিকিৎসকদের উদ্দেশে একটি চিঠি জারি করে গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে তারা জানায়, এটি এখনো গর্ভাবস্থায় জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য একমাত্র অনুমোদিত ওষুধ।

এফডিএর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই ওষুধ এবং স্নায়বিক সমস্যার মধ্যে কার্যত কোনো সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য এখনো সবচেয়ে নিরাপদ ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামল।

গবেষণা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

🕒 প্রকাশ: ০১:২২ পূর্বাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি

🕒 প্রকাশ: ০১:১০ পূর্বাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

🕒 প্রকাশ: ০১:০০ পূর্বাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৯ অপরাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ

🕒 প্রকাশ: ১১:৪১ অপরাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250