শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদার ড. ইউনূস’ *** শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগেই সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ *** খুলনায় ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা *** মুঠোফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ *** পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ৩১, ইত্তেহাদুল মুজাহিদিনের দায় স্বীকার *** রাজধানীতে মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ *** কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার *** ‘তৃণমূলের নাম–প্রতীক কেড়ে নেওয়া বিজেপির নোংরা খেলা’, আদালতে মমতা *** সব জেলা পরিষদের স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক করতে সরকারের নির্দেশ *** বিধ্বস্ত পরমাণু স্থাপনা ফের নির্মাণ করছে ইরান

দাম্পত্য সম্পর্কে যৌনমিলনের ‘বাধ্যবাধকতা’ বিলুপ্ত করছে ফ্রান্স

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ৩০শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দাম্পত্য সম্পর্ক মানেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা—বহুদিনের এই ধারণা আইনগতভাবে বাতিল করার পথে হাঁটছে ফ্রান্স। দেশটির জাতীয় পরিষদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ফরাসি সিভিল কোডে স্পষ্টভাবে বলা হবে, দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে বসবাস কোনোভাবেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব তৈরি করে না। তথ্যসূত্র: বিবিসি।

প্রস্তাবিত এই আইনে আরও বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক না থাকাকে ‘দোষ’ হিসেবে চিহ্নিত করে আর ‘বিবাহবিচ্ছেদ’-এর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আইনটি বড় ধরনের তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এর সমর্থকদের মতে, এটি দাম্পত্য ধর্ষণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিলটির উদ্যোক্তা গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য মেরি-শার্লট গারাঁ বলেন, ‘এই ধরনের অধিকার বা কর্তব্যের ধারণা টিকিয়ে রেখে আমরা আসলে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর ওপর আধিপত্য ও নিপীড়নের একটি ব্যবস্থাকে নীরবে অনুমোদন দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ে এমন কোনো বদ্ধ পরিসর হতে পারে না, যেখানে আজীবনের জন্য যৌন সম্মতি ধরে নেওয়া হবে।’

উল্লেখযোগ্য যে, ফরাসি সিভিল কোডে দাম্পত্যের দায়িত্ব হিসেবে শুধু সম্মান, বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা ও সহায়তার কথা বলা আছে। তবে মধ্যযুগীয় চার্চ আইনের প্রভাবে বিচারকেরা অতীতে মাঝে মাঝে ‘সহবাস’-এর ব্যাখ্যায় যৌন সম্পর্ককে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এর একটি আলোচিত উদাহরণ ২০১৯ সালের একটি মামলা, যেখানে দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক না রাখার অভিযোগে এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামীকে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ওই নারী ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে আপিল করলে, আদালত ফ্রান্সকে তিরস্কার করে এবং রায় দেয়—যৌন সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করা বিবাহবিচ্ছেদের দোষ হতে পারে না।

এই রায়ের পর থেকেই ফরাসি আদালতে কার্যত এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাদের নতুন আইনটি মূলত সেই অবস্থানকে স্পষ্টভাবে আইনে প্রতিষ্ঠা করছে। নারীবাদী আন্দোলনকারীদের মতে, সমাজে এখনো ‘স্ত্রীর যৌন দায়িত্ব’ ধারণাটি রয়ে গেছে, যা ভাঙা জরুরি।

২০২৪ সালের আলোচিত মাজাঁ মামলাও এই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। এই মামলার নথি অনুযায়ী, গিসলে পেলিকট নামে এক নারীকে অচেতন অবস্থায় বারবার ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়, অভিযুক্তরা তাঁর স্বামীর সম্মতিতেই এমনকি করেছে।

ফ্রান্সে ১৯৯০ সাল থেকেই দাম্পত্য ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। গত বছর দেশটিতে ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—নীরবতা বা প্রতিক্রিয়ার অভাব কখনোই সম্মতি নয়।

ফ্রান্স

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250