শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় 'সেভেন সিস্টার্সকে' বিমসটেকের কেন্দ্রবিন্দু বলল ভারত *** 'রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনই উপসংহারে পৌঁছানো উচিত হবে না' *** ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে থাকা ঈদের সিনেমার গান *** থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা *** ইউনূস–মোদির বৈঠকে 'আশার আলো' দেখছে বিএনপি *** ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক *** সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর *** সাড়া ফেলেছে নিশো–তমার ‘দাগি’, বেড়েছে শো *** রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার, প্রথম ধাপে যাবে ১ লাখ ৮০ হাজার *** ঈদে সিনেমা হলে কেন নেই ‘জ্বীন থ্রি’, যা বলছেন প্রযোজক

শিল্পকলায় নাটক বন্ধ, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে জাতিকে!

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৫:০৮ অপরাহ্ন, ৬ই নভেম্বর ২০২৪

#

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় নাট্যশালা হলো শিল্পকলা একাডেমি। গত শনিবার (২রা নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় দেশ নাট্যদল তাদের নিত্যপুরাণ নাটকের ১২৭তম প্রদর্শনী করছিল। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেন মাসুম রেজা। কিছু মানুষের বিক্ষোভের কারণে নাটকটি চলা অবস্থায় বন্ধ করে দেয় শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।বিক্ষোভকারীদের সাথে সেখানে গিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন শিল্পকলার মহাপরিচালক  সৈয়দ জামিল।বিক্ষোভকারীদের কোনোভাবে শান্ত করতে না পেরে তিনি মঞ্চে চলতে থাকা নাটকটির বন্ধ করার ঘোষণা  দেন। মঞ্চে ওঠে তিনি বলেন, ‘এতোক্ষণ (ঠেকানোর) যুদ্ধ করলাম তো, এখন যেটা হবে- এখানে এসে উত্তেজিত জনতা আগুন দিয়ে দেবে। সেটি আরো ভয়ঙ্কর হবে। আমরা খুবই দুঃখিত, এটার জন্য লজ্জিত যে- আমাদের এই শো টা বন্ধ করতে হচ্ছে…’।

ঘটনার বিষয়ে  নাটকটির রচয়িতা ও পরিচালক মাসুম রেজা বলেন, ‘আসলে পরিস্থিতি এমন হয়ে গিয়েছিল এবং জামিল ভাই এসে বললেন বন্ধ করতে হবে, কারণ তিনি ওদের বোঝাতে পারছিলেন না। তখন নাটকটা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমরা আর কিছু ভাবতে পারিনি।

ঘটনার সূত্রপাত, নাটকের শো শুরুর আগে শিল্পকলার গেটে একদল বিক্ষোভকারী নাটক বন্ধের জন্য ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। তাদের দাবি ‘দেশ নাটক’ এর একজন অভিনেতা এহসানুল এজাজ বাবুকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে এবং নাটকটি বন্ধ করে দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এহসানুল এজাজ বর্তমান সরকারকে নিয়ে ফেসবুকে কটাক্ষ করেছেন। তাকে নিয়ে কোনো নাটক করা যাবে না। সে যদি নাটকে থাকে তাহলে এখানে কোনো নাটক হতে  দেয়া হবেনা, এবং মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে।

আরো পড়ুন : বিশিষ্ট অভিনেত্রী শমী কায়সার গ্রেফতার

ঘটনার পর স্যোশাল মিডিয়াসহ সর্বত্র প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে, বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। গত সোমবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির প্রধান ফটকের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ থিয়েটারকর্মী’-এর ব্যানারে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বক্তারা সেখানে বলেন, শিল্পকলায় নাটক প্রদর্শনী বন্ধ বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ইতিহাসে এক করুণতম দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সারাদেশের সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিকদের শঙ্কিত করেছে। নাটকের দল একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান। সাধারণত সেখানে সব রাজনৈতিক দল-মত ও আদর্শের মানুষের সহাবস্থান থাকে। শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে এসব খুব বড় বাধা নয়, বরং এ সহাবস্থান আর সহিষ্ণুতার চর্চাই থিয়েটারের মূল শক্তি। বিক্ষুব্ধ থিয়েটারকর্মীদের পক্ষ থেকে সমাবেশে লিখিত ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে, (১) দেশ নাটকের বন্ধ প্রদর্শনী সাত দিনের মধ্যে পুনরায় চালু করতে হবে। (২) নাট্যকর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রদর্শনী করতে পারে তার নিরাপত্তা দিতে হবে। (৩) সাধারণ নাট্যকর্মী, দর্শক, নাগরিকদের জন্য শিল্পকলাকে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। (৪) সব ক’টি হল খুলে দিয়ে নাট্যচর্চার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। (৫) শিল্পকলা পরিষদের আমলানির্ভরতা কমাতে হবে। (৬) শিল্পকলায় থিয়েটার দলগুলোর প্রদর্শনী বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে।

শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছে মানুষ। যারা আন্দোলনে হতাহত হয়েছেন, তাদেরও অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাকস্বাধীনতা ও মুক্তমত চর্চায় সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু ছাত্র-শ্রমিক-জনতার রক্তে অর্জিত বিজয়ের পর থেকেই কোনো কোনো গোষ্ঠী অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অপচেষ্টা করছে। তারা প্রগতিবিরোধী, মানুষের মুক্তি চায় না। মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় তারা। নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের মতো কাজ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে  অন্তরায়। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, শিল্পচর্চার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সরকার সমর্থন করে না। নাট্যকর্মীদের আস্থা ফেরাতে সরকারকে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শিল্পকলায় ভয়-ভীতিহীন সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।

শিল্পকলা একাডেমিকে নাটক বন্ধ কোনো শুভ লক্ষণ নয়। এটি একটি অশুভ ইঙ্গিত। বর্তমান সময়ে সংস্কৃতি-বিরুদ্ধ একটি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এদের বিরুদ্ধে দেশের সকল প্রগতিশীল ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এস/  আই.কে.জে

শিল্পকলা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন