বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা *** জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে ইসি *** রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি *** সারাদিনই থেমে থেমে বৃষ্টির আভাস, কমবে কাল থেকে *** কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, এক রাতে আটক ৬২৪ *** বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোরকে আদালতে পাঠাল পুলিশ *** মাদক-জুয়া প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের *** ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর *** দ্বিতীয়বার পাসপোর্ট হারালে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা *** সড়ক নিরাপত্তায় চালকদের দক্ষতা-স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীরা শনাক্ত, মামলার সিদ্ধান্ত পরিবারের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, ১৩ই এপ্রিল ২০২৬

#

হামলার পর ফিলিপনগরে শামীমের দরবার শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে, কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে এই হামলা উসকে দেওয়া হয়েছিল।

প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক লোক ছিলেন। ভাঙচুরে সরাসরি অংশ নেন ৭-৮ জন। আর দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেন বলেও জানায় পুলিশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক এসআই সুখবর ডটকমকে আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে বলেন, যে আইডিগুলো থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দুয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হামলা–ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ১৫-১৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে শামীমকে তার দরবার শরিফেই কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছ। ভিডিওতে হামলায় অংশ নেওয়া অনেকের মুখ স্পষ্ট দেখা গেলেও, সোমবার সকাল পর্যন্ত কেউ আটক হননি। এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ সুখবর ডটকমকে বলেন, 'একটি ছায়া তদন্ত চলছে এবং আমরা বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি।'

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত শামীমের কয়েকজন অনুসারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হলেও এ হামলার পেছনে লুটের উদ্দেশ্য থাকতে পারে।'

তাদের দাবি, দরবার থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করার পর বাকি সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শামীমের ব্যবহৃত স্বর্ণের মুকুট, বাঁশি ও নূপুর পাওয়া যাচ্ছে না।

নিহতের বড় ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শী ফজলুর রহমান বলেন, 'আমার ভাইকে কুপিয়ে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়েছে। সে যদি কোনো অপরাধ করে , তবে দেশের আইনে বিচার হতে পারত। কিন্তু এভাবে কোনো মানুষকে মেরে ফেলা যায় না। আমি বিচার চাই।'

তিনি জানান, হামলার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোতলা ভবনের সিঁড়ির কাছে ভাইকে অচেতন অবস্থায় পান। পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম বলেন, 'নিহতের মাথা, ঘাড় ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের ভাই বলেন, 'মামলার বিষয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।' জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, 'এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের কেউ থানায় আসেননি। তবে রাতে তারা আসবেন বলে জানতে পেরেছি।'

কুষ্টিয়া

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250