ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোরকে শিশু আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তাকে শিশু আদালতে পাঠানো হয়।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের চাপায় মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ওই রাতেই গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় আকাশ মারককে গাড়িচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলায় ওই শিশুর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কার থেকে দুজন নেমে আসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গাড়ির চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোরকে নামতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও সিসি ক্যামেরার রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তার সম্পৃক্ততা পায়। এরপর গুলশানের বাসা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘কিশোরটিকে শিশু আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সকালে তাকে শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর জানান, অনলাইনে প্রকাশিত খবরটি নজরে আসার পর পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এতে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরে তাকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
গাড়ির নথিপত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাড়িটির মালিক সিগমা আব্বাস। তার স্বামী আব্বাস আলি শরিফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। তাদের সন্তান ১৬ বছর বয়সী আজান আলি শরিফ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর কালো টি-শার্ট পরা ওই কিশোর গাড়ির চালকের আসন থেকে নেমে আসে।
এ ঘটনায় গাড়িচালক হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা আকাশ মারক পলাতক রয়েছেন। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবরটি শেয়ার করুন