ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা শহরের আকাশ সকাল থেকেই মেঘলা, থেমে থেমে ঝরছে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সারাদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে কাল থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজ দেশের চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ দুপুর ১২টার পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীতে ৩৬ মিলিমিটার। এই সময়ে ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে পাঁচ মিলিমিটার।
সকাল থেকে ছয় ঘণ্টায় ভোলায় ২৮ মিলিমিটার, মাদারীপুরে ২৪, ফরিদপুরে ২২, বরিশালে ১৯, রাজশাহীতে ১৫, চুয়াডাঙ্গায় ১৪ ও তারাশে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এর আগে ভোররাতে উত্তরপশ্চিম ও পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে।
পূর্বাভাস অনুসারে, স্থল গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।
এই নিম্নচাপ নিয়ে গত দুই দিন ধরে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এই সিরিজে আর কোনো বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে আজও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দুর্ঘটনা এড়াতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের নদী অববাহিকায় দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে এক নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি সংক্রান্ত পূর্বাভাস বলছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি।
তবে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে, বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
যোগাযোগ করা হলে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘আগামীকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থল গভীর নিম্নচাপের কারণে ভেসে আসা মেঘে এই বৃষ্টি হচ্ছে। আজ প্রায় সারা দিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।’
‘আগামী মাসের শুরুর দিকে আরেক দফা বৃষ্টির পর বর্ষা (মৌসুমি বায়ু) বিদায় নিতে পারে,’ বলেন এই আবহাওয়াবিদ।
খবরটি শেয়ার করুন