নিহতদের স্মরণে শোকসভায় মোমবাতি প্রজ্বালন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে, ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫। ছবি: রয়টার্স
নেপালের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ ও প্রাণঘাতী সংঘাতের পর গতকাল শনিবার (১৩ই সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে দেখা গেছে। কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। সড়কে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও কমেছে। খবর এএফপির।
গত শুক্রবার নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। এ ছাড়া দেশটির জাতীয় নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের ৫ই মার্চ দেশটিতে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সুশীলা শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করা হয়। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল তা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করা ছিল বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি।
এদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়, শনিবার দেশটির আটটি রাজনৈতিক দল পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলে, ‘প্রেসিডেন্টের নেওয়া পদক্ষেপটি অসাংবিধানিক এবং নেপালের বিচার বিভাগের পূর্ববর্তী নজিরের পরিপন্থী।’ তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করার পর দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। সংকট সমাধানে বিক্ষোভকারী তরুণদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট পাওদেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। আলোচনায় মতৈক্য হওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলার নাম ঘোষণা করে প্রেসিডেন্টের দপ্তর। দায়িত্ব নেওয়ার পর সুশীলা চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
শনিবার সকালে কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি শান্ত দেখা যায়। সেখানে দোকানপাট খুলেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং লোকজনকে বাইরে মন্দিরে যেতে দেখা গেছে।
৭৩ বছর সয়সী সুশীলা নেপালের প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন। আর তিনিই দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন। তাই তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নেপালি জনগণের কাছে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। অনেকেই একে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বলে মনে করছেন।
খবরটি শেয়ার করুন