বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন *** নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কাছে ৭১ সংগঠনের ১০ সুপারিশ *** ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না’ *** ‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে *** পায়ে পাড়া দিয়ে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ থাকব, তা হবে না: শফিকুর রহমান *** বিচ্ছেদের পর গলায় স্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে দুধ দিয়ে গোসল

গোবর-গোমূত্র গবেষক পাচ্ছেন পদ্মশ্রী, সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের বিদ্রুপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪২ অপরাহ্ন, ২৭শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ভারতে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা ভি কামাকোটিকে। এই সম্মাননা পাওয়ার ঘোষণার পর তার গোবর ও গোমূত্র নিয়ে গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ কটাক্ষ করে কংগ্রেসের কেরালা ইউনিট। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বাগ্‌যুদ্ধ।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভি কামাকোটিকে পদ্মশ্রী সম্মানে মনোনীত করা নিয়ে কেরালা কংগ্রেস কটাক্ষ করলে, তার জবাবে পাল্টা আক্রমণ করেন ভারতীয় বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি জোহো-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। এ নিয়ে কেরালা কংগ্রেস ও ভেম্বুর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ্যে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভি কামাকোটিকে পদ্মশ্রী সম্মানে মনোনীত করা নিয়ে কেরালা কংগ্রেস কটাক্ষ করলে, তার জবাবে পাল্টা আক্রমণ করেন ভারতীয় বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি জোহো-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। এ নিয়ে কেরালা কংগ্রেস ও ভেম্বুর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ্যে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

পদ্মশ্রী পাওয়া নিয়ে বিবৃতিতে কামাকোটি বলেন, “পদ্মশ্রী পুরস্কার আমার কাছে একটাই অর্থ বহন করে—‘বিকশিত ভারত ২০৪৭ ’-এর লক্ষ্যে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। এই সম্মান কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ”

এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের কেরালা ইউনিট এক্স-এ পোস্ট করে, “ভি কামাকোটিকে এই সম্মান পাওয়ার জন্য অভিনন্দন। আইআইটি মাদ্রাজে আপনার গরুর মূত্র নিয়ে ‘ব্লিডিং এজ’ গবেষণার জন্য দেশ আপনাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, গোমূত্রকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য।" 

ওই পোস্টে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালকের সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টানা হয়, যা গত বছর ব্যাপক শিরোনাম হয়েছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘গোমূত্র’-এর মধ্যে “অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল” ও “অ্যান্টি-ফাঙ্গাল” গুণ রয়েছে এবং এটি আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) সহ নানা ধরনের রোগ নিরাময়ে কার্যকর হতে পারে। এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যিনি বৈজ্ঞানিক মানসিকতা প্রচারের দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি কীভাবে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন।

এর জবাবে ওই অধ্যাপক বলেন, ‘গোমূত্রের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

কেরালা কংগ্রেসের এই কটাক্ষের পর জবাবে জোহো-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু বলেন, ‘প্রফেসর কামাকোটি মাইক্রো-প্রসেসরের ডিজাইনের মতো ডিপ টেকের ক্ষেত্রে কাজ করেন। তিনি ভারতের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক। তিনি এনএসএবিতেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই সম্মান তিনি যথার্থভাবেই প্রাপ্য।’

বৈজ্ঞানিক যুক্তির ভিত্তিতে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালককে সমর্থন করে যাবেন বলে জানান জোহোর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, ‘আমি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতেই তাকে সমর্থন করেছি এবং আবারও করব। গোবর ও গোমূত্রে উৎকৃষ্ট মানের মাইক্রোবায়োম রয়েছে, যা মানুষের জন্য মূল্যবান হতে পারে।’

ভেম্বু আরও যোগ করেন, ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতার দাসত্বই মানুষকে ভাবতে শেখায় যে এগুলো বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের যোগ্য কোনো প্রস্তাব নয়। একদিন যদি হার্ভার্ড বা এমআইটি এ বিষয়ে কোনো গবেষণা প্রকাশ করে, তখন এই দাস মানসিকতার লোকেরাই সেটিকে গসপেল ট্রুথ বা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে পূজা করবে।’

এর জবাবে কংগ্রেসের কেরালা ইউনিট বলে, ‘গবেষণা মানে প্রেক্ষিতের বাইরে থেকে এলোমেলো কিছু পশ্চিমা গবেষণাপত্র উদ্ধৃত করা নয়। গোবর ও গোমূত্র নিয়ে এই সব গবেষণার ফলাফলই বা কী? আর আমরা কেন শুধু গোবরেই সীমাবদ্ধ থাকছি? মহিষ, ছাগল বা এমনকি মানুষের মলমূত্রের বিষয়েই বা কী হবে?’

তারা আরও বলে, ‘সম্প্রতি এ ধরনের এক গোবর-ভিত্তিক গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশ্যে এসেছে। মধ্যপ্রদেশ সরকার ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য পঞ্চগব্য ব্যবহার করে একটি গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল। পঞ্চগব্য হলো গোবর, গোমূত্র, দুধ, দই ও ঘি দিয়ে তৈরি একটি প্রথাগত মিশ্রণ।’

কংগ্রেসের কেরালা ইউনিট আরও বলে, ‘অতিরিক্ত কালেক্টর রঘুভার মারাভির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, ওই গবেষণার জন্য গোবর ও গোমূত্র কিনতেই বিপুল ১.৯২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, অথচ প্রকৃত খরচ হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৫–২০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৩.৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে গাড়ি কেনা, পেট্রোল ও ডিজেল ভরা, এমনকি গোয়া ও বেঙ্গালুরু সফরেও। এই গবেষণার ফলাফলই বা কী?’

এ ধরনের আরও প্রকল্প তদন্তের আওতায় এলে একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে আসবে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।

তারা আরও বলে, ‘ক্যানসার গবেষণার প্রয়োজন আছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কেন আপনারা জোর দিয়ে বলছেন যে শুধু গোবর বা গোমূত্রই ক্যানসার সারাতে পারে? কোভিডের সময় আমরা দেখেছি, কীভাবে প্রতারকেরা গোবর ও গোমূত্র দিয়ে ভাইরাস মারার চেষ্টা করছিল। তার ফলাফল কী হয়েছিল?’

এরপর কংগ্রেস সরাসরি শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জ জানায় গোমূত্র নিয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ করার জন্য। তারা বলে, আপনি যেহেতু একজন বিলিয়নিয়ার এবং গোমূত্রের তথাকথিত জাদুকরি উপকারিতায় বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনার সংস্থা কেন সঠিকভাবে গোমূত্র ও গোবর নিয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ করে না? যদি গোমূত্র সত্যিই ক্যানসার নিরাময়ে সহায়ক হয়, তবে তা হবে বিশ্বের জন্য আমাদের অন্যতম বড় অবদান। কেন আপনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কথার সঙ্গে টাকাও লাগাচ্ছেন না?’

জে.এস/

ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250