ছবি: সংগৃহীত
মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে খুলনায় পৌঁছেছে পরীক্ষামূলক ট্রেন। রোববার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পরীক্ষামূলক ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পদ্মা সেতু দিয়ে নতুন এই রুটে খুলনা-ঢাকা রুটে চলাচল করবে ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেন।
পরীক্ষামূলক ট্রেনটি খুলনায় পৌঁছালে ট্রেনে থাকা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল বাকী ও মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকে স্বাগত জানান খুলনা রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ১৪টি বগি নিয়ে ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেন খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বর্তমানে পোড়াদহ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, ভাঙ্গা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে খুলনা থেকে নওয়াপাড়া, সিঙ্গিয়া, নড়াইল, পদ্মবিলা, কাশিয়ানি, ভাঙ্গা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাবে এই ট্রেন। এতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা। অর্থ্যাৎ, বর্তমানের তুলনায় সময় কমবে সাড়ে ৪ ঘণ্টা।
মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল সফল হয়েছে। রেললাইনসহ অন্যান্য সব কিছু ট্রেন চলাচলের উপযোগী রয়েছে। নতুন রুটে কবে থেকে ট্রেন চালানো হবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে চালানোর ব্যাপারে আলোচনা চলছে। নতুন রুটে সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। যা যাত্রীদের জন্য খুবই আনন্দের খবর। তিনি বলেন, নতুন রুটে মোংলা থেকে ঢাকায় একটি ট্রেন চালানো যায় কিনা সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল বাকী বলেন, নতুর রুটটির জন্য খুলনা-যশোরের মানুষ অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। তাদের অপেক্ষার পালা শিগগিরই শেষ হচ্ছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন রুটে ট্রেন চলবে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হলেন ৬০ শিক্ষার্থী
খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে খুলনা থেকে ঢাকা রুটে মোট ৩টি ট্রেন চলাচল করে। সেগুলো হচ্ছে- সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেন। এর মধ্যে নকশীকাঁথা ট্রেনটি ৫ বগি নিয়ে প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে ছেড়ে যায়। পোড়াদহ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, ভাঙ্গা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘণ্টা।
তিনি জানান, চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন রোববার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন সকাল ৯টায় ১৪ বগি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যমুনা সেতু দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। পর্যায়ক্রমে যদি ৩ ট্রেনই নতুন রুটে চলাচল করে তাহলে খুলনার যাত্রীদের সময় অনেক সাশ্রয় হবে।
খুলনা থেকে ঢাকায় নিয়মিত বাসে যাতায়াতকারী যাত্রী আনিস মোল্লা ও খলিলুর রহমান বলেন, বাসে ঢাকায় যেতে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা। আর ট্রেনে বর্তমানে সময় লাগে আরও বেশি। নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে বাসের চেয়েও কম সময়ে ট্রেনে করে খুলনার যাত্রীরা ঢাকায় যেতে পারবে। এটা অবশ্যই খুলনাবাসীর জন্য আনন্দের খবর।
এসি/ আই.কে.জে/