ফাইল ছবি
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বেসরকারি সময় টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মুজতবা খন্দকার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বিশেষভাবে বর্তমান সরকার ও তার সমালোচনাকে কেন্দ্র করে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে মুজতবা খন্দকার লিখেছেন, “দুই মাসও হয়নি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের। এরই মধ্যে তার সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি কিছু পরিচিত মুখ। অথচ শেখ হাসিনা-রেজিমে তারাই আমার বন্ধু ছিল। তাদের সঙ্গে প্রতিদিনই আমার ইন্টারঅ্যাকশন হতো।”
তিনি আরও বলেন, “অথচ এখন তাদের পোস্ট দেখলে আমি অবাক হই। মাত্র দুই মাস একটি সরকারকে মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু যারা শেখ হাসিনাকে সতের বছর সহ্য করেছে, তারা তারেক রহমানের সরকারের দুই মাসেই ত্যক্ত-বিরক্ত। কিন্তু কেন? সত্যিই কথা হচ্ছে, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যে দলটিকে কেউ ‘বেনিফিট অব ডাউট’ও দিতে চায় না। পান থেকে চুন খসলেই চলে দলটির বিরুদ্ধে নির্দয় সমালোচনা।”
স্ট্যাটাসের আরেক অংশে তিনি বর্তমান সরকারের কার্যক্রম ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি একসময় কৌতুকের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তারেক রহমানের সরকার গঠনের শুরুতেই পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুত সময়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের এটি একটি রেকর্ড। অথচ এটি নিয়ে কারও কোনো আলাপ নেই। সমালোচকেরা আছেন, তারেক রহমানের সরকার গত দুই মাসে কত ভুল করল, সেই হিসাব মেলাতে।”
সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও তিনি নিজের মতামত ব্যক্ত করেন। মুজতবা খন্দকার লেখেন, “শেখ হাসিনার অতিরিক্ত কথন নিয়ে দেশের মানুষ বিরক্ত ছিল। তারেক রহমান সংসদে কম কথা বলেন, এটিও তাদের অনেকের সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বললেন, সেটি নিয়ে কত গুজব, কত ‘ইডিয়টিক’ আলোচনা। আরে, সংসদ হচ্ছে আইন প্রণয়নের জায়গা। দেশের জনগণের আইনি সুবিধা দেওয়াই সংসদের কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু আমাদের সংসদ সে কাজটি করে না। কেন করে না? কারণ তৃতীয় বিশ্বে এখনো আমলাতন্ত্র দেশপ্রেমিক হয়ে ওঠেনি। যে কারণে সংসদ সদস্যদেরই এগুলো করতে হয়। দেশটা সিঙ্গাপুর না, পাশের দেশ ভারত হলেও আমরা বেঁচে যাই। সেটা হবে কবে?”
মুজতবা খন্দকারের এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক নেটিজেন তার বক্তব্যকে ‘বাস্তবসম্মত’ ও ‘সাহসী’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুকের বিভিন্ন আলোচনায় দেখা গেছে, একাংশের মতে তিনি রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন—কেন একটি সরকারকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ধৈর্যের অভাব দেখা যায়।
অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, সাংবাদিক হিসেবে মুজতবা খন্দকারের এই পর্যবেক্ষণ জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলভেদে জনমতের আচরণ পরিবর্তন হওয়া নতুন কিছু নয়, তবে এ বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেছেন, একটি নতুন সরকারকে সময় দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। তারা মনে করেন, দ্রুত সমালোচনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ইতিবাচক দিকগুলোকেও সমানভাবে আলোচনায় আনা উচিত। মুজতবা খন্দকারের বক্তব্য সেই ভারসাম্যের প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
নেটিজেনদের মতে, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ এতটাই তীব্র যে, অনেক সময় মানুষ দল দেখে মতামত দেয়। এই বাস্তবতাকে সামনে এনে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ।” কিছু নেটিজেন তার বক্তব্যের সঙ্গে আংশিক দ্বিমতও পোষণ করেছেন। তাদের মতে, সরকার সমালোচনা গণতন্ত্রেরই অংশ এবং সময়সীমা নির্বিশেষে ভুলত্রুটি তুলে ধরা উচিত। তবে তারাও স্বীকার করেছেন, দুই মাসে একটি সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা কঠিন।
খবরটি শেয়ার করুন