বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইরানের মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে খামেনিকে *** ড. ইউনূস কি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অপেক্ষায়? *** ‘পুলিশ হত্যাকাণ্ড কোনো অবস্থাতেই দায়মুক্তি পেতে পারে না’ *** হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি স্থানে ৪ বাংলাদেশি জাহাজ *** দুদিনের সফরে ঢাকায় মার্কিন সহকারী মন্ত্রী পল কাপুর *** আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব *** ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আরব আমিরাত *** ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে বাংলাদেশ আঘাতপ্রাপ্ত হবে’ *** যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ‘পুনর্গঠন-বাণিজ্য’ করবে চীন, কিনবে সস্তায় তেল *** ঢাকার আইসিইউতে ৭ শতাংশ রোগীর শরীরে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক

অক্সিজেন ছাড়া পানির নিচে দীর্ঘ সময়, হ্যানেয়ো নারীদের রহস্যভেদ করল বিজ্ঞান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:২৯ অপরাহ্ন, ১৯শে মে ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের হ্যানেয়ো নারীরা শত শত বছর ধরে সমুদ্রের তলদেশ থেকে শৈবাল, অ্যাবালোনসহ নানা সামুদ্রিক খাবার সংগ্রহ করে আসছেন। অক্সিজেন ট্যাংক ছাড়া দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাণ্ডা জলে ডুবে থেকে এ সংগ্রহের কাজ করেন তারা। এবার বিজ্ঞানীরা তাদের শরীরে এমন এক জিনগত পরিবর্তনের সন্ধান পেয়েছেন, যা এ ব্যতিক্রমী সামুদ্রিক জীবনযাপনের পেছনের রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, হ্যানেয়ো নারীদের ডিএনএ-তে এমন দুটি পরিবর্তন পাওয়া গেছে, যা তাদের ডুবসাঁতারে অনন্য করে তুলেছে। এর মধ্যে একটি পরিবর্তন মূলত ডুব দেওয়ার সময় নারীদের রক্তচাপ কমিয়ে রাখে। এর ফলে গর্ভবতী অবস্থাতেও তারা নিরাপদে ডুব দিতে পারেন। খবর সিএনএনের।

দ্বিতীয় পরিবর্তনটি ঠাণ্ডা থেকে সৃষ্ট যন্ত্রণার সহনশীলতা বাড়ায়। এর ফলে শীতের মৌসুমে যখন জেজু দ্বীপের বাতাস জমে যাওয়ার মতো ঠাণ্ডা থাকে, তখনো তারা অনায়াসে পানিতে নামেন।

গবেষক মেলিসা ইলার্ডো বলেন, ‘আমি ৮০ বছরের হ্যানেয়োদের দেখেছি চলন্ত নৌকা থেকে সরাসরি সাগরে ঝাঁপ দিতে। এটা যেন মানুষের শরীরের সীমা ছাপিয়ে যাওয়া এক ক্ষমতা।’

সম্প্রতি ‘সেল রিপোর্টস’-এ এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, জীবন্ত জলপরি হিসেবে খ্যাত হ্যানেয়ো নারীদের হৃৎস্পন্দনের মাত্রা একেকটি ডাইভে নাটকীয়ভাবে কমে যায়। অভিজ্ঞ ডুবুরিদের ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দনের এ হার মিনিটে প্রায় ৪০ বার পর্যন্ত কমে আসে, যা অক্সিজেন ধরে রাখার একটি চমৎকার কৌশল।

জেজু দ্বীপের স্থানীয় ভাষার সংক্ষিপ্ত রূপও এ ডুবুরি সংস্কৃতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন গবেষকরা। পানির ওপরে দ্রুত যোগাযোগ করার প্রয়োজনেই ভাষার রূপ বদলেছে তাদের।

এ গবেষণা শুধু হ্যানেয়োদের বিস্ময়কর জীবনযাত্রার তথ্যই দেয়নি, বরং ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ বা স্ট্রোক প্রতিরোধে নতুন চিকিৎসা আবিষ্কারের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত করেছে।

গবেষক ইলার্ডো বলেন, ‘যদি এ জিনগত উপাদানগুলো স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়, তাহলে তা সারা পৃথিবীর মানুষের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে।’

এইচ.এস/

গবেষণা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250