ছবি: সংগৃহীত
ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে যখন চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তখন লাহোরে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) ত্রিমুখী বৈঠক।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী শহরে গতকাল রোববার (৮ই ফেব্রুয়ারি) প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এই বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি। তবে শিগগির বড় সিদ্ধান্ত চলে আসবে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে; এমনকি বাংলাদেশকেও আইসিসি ক্ষতিপূরণ দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে এই বৈঠকে ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে আশাবাদী হওয়ার মতো বিষয় রয়েছে।
পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা বাংলাদেশ যেন আইসিসির আয়ের পুরোটা পায়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।
সূচি অনুযায়ী ১৫ই ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসায় হওয়ার কথা ভারত-পাকিস্তান। তবে ১লা ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলে ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় আইসিসি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ ঘিরে নানা খাতে কোটি কোটি টাকা আয় করে থাকে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
লাহোরে গতকাল ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এটাই ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। এই বৈঠকে পিসিবি সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে জিও টিভির গত রাতের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি এই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিসিবি যে দাবিগুলো তুলেছে, আইসিসি তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বিসিবির সমস্যার সমাধানে একটা ফর্মুলা তৈরি করা হয়েছে।
জিও টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাহোরে গত রাতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আইসিসি-বিসিবি প্রস্তাব বিনিময় করেছে। পাকিস্তানি এই সংবাদমাধ্যমকে এক সূত্র বলেন, ‘প্রস্তাবিত ফর্মুলার ব্যাপারে একমত হলে সামনে এগোবে আইসিসি। চূড়ান্ত পদক্ষেপের ব্যাপারে আগামীকাল (আজ) বিকেলে আইসিসি এবং বিসিবির কর্মকর্তারা ফের আলোচনা করবেন।’
বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে পারে আইসিসি। সেই ‘ক্ষতিপূরণ’ হতে পারে আর্থিকভাবে, হতে পারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোনো আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দিয়ে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের লাভের ভাগ দিতে পারে আইসিসি।
ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব আইসিসির ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে পারে তারা কিংবা ভিন্নভাবেও বাংলাদেশকে কোনো ‘সান্ত্বনা’ বা সমর্থনসূচক বিবৃতিও দিতে পারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও একই কথা বলছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ১৫ই ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা খেলতে পাকিস্তান রাজি হতে পারে। নাকভি এ বিষয়ে তাদের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
লাহোরে গতকাল ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ কতটা ‘জিততে’ পেরেছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে গতকাল মধ্যরাতে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি লাহোর বিদায় জানিয়েছেন বুলবুলকে। দুজনের হাসিমুখ বলে দিচ্ছে, বৈঠক বৃথা যায়নি।
খবরটি শেয়ার করুন