রবিবার, ৩১শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ *** ট্রাম্পের শুল্কের যে প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের ১৫ হাজার গার্মেন্টসে *** বিস্ফোরণ-গুলি-ড্রোনের শব্দকে শ্রুতিমধুর সংগীতে রূপান্তর করছেন গাজার শিল্পী *** অশান্ত বিশ্বে সি–মোদির বন্ধুত্বের বার্তা *** রোনালদোকে যে লড়াইয়ে চাপে রেখেছেন মেসি *** আগামী নির্বাচন যেন অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হয়: এনসিপি *** সরকার একটা বাসস্ট্যান্ড ক্লিয়ার করতে পারে না, এত বড় নির্বাচন কীভাবে ট্যাকেল করবে: জামায়াত *** ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ঠেকাতে শিকাগো মেয়রের কঠোর নির্দেশনা *** নির্বাচন ঘিরে অশুভ শক্তির অপতৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে: তারেক রহমান *** ভিকারুননিসায় হিজাব বিতর্ক: বরখাস্ত শিক্ষিকাকে পুনর্বহালে সময় দিল শিক্ষার্থীরা

বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী, টাইটানিক থেকেও বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি!

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২৪

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী কে তা জানেন কি? বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারীর খেতাব ভায়োলেট জেসপের। তাকে এই খেতাবে ভূষিত করার অসংখ্য কারণও রয়েছে। ভায়োলেট জেসপের জীবনের ঘটনাগুলো এতোটাই রোমাঞ্চকর যা আপনাকে হতবাক করবেই।

ভায়োলেট জেসপের জন্ম ১৮৮৭ সালের ২রা অক্টোবর আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কার কাছে। তিনি ছিলেন আইরিশ অভিবাসী উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন জেসপের বড় কন্যা। তবে তার আগে কয়েকটি সন্তান মারা গেছে এই দম্পতির। এরপর আরও কয়েকটি সন্তান হয় তাদের। জেসপ ছোটবেলা থেকেই ভাইবোনের দেখাশোনা করেই বড় হয়েছে।

একবার জেসপ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন এবং খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসক তার বাঁচার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের ভবিষ্যদ্বাণী এবং আশঙ্কা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন জেসপ। ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এরপর তার পুরো পরিবার ইংল্যান্ডে চলে আসেন।

স্কুলে পড়াশোনা করা, ছোট ভাইবোনের দেখাশোনা করাই ছিল তার কাজ। কিন্তু তার মা অসুস্থ হওয়ার পর সংসারের কাজও করতে হতো জেসপকে। সংসার চালাতে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে চাকরির সন্ধানে বের হতে হয়। ১৯০৮ সালে হোয়াইট স্টার লাইন কোম্পানিতে একজন সেবিকা হিসেবে যোগ দেন জেসপ। ১৯১০ সালে ওই কোম্পানির জাহাজ এইচএমএস অলিম্পিকে কাজ শুরু করেন।

১৯১১ সালে অন্য একটি জাহাজের সঙ্গে অলিম্পিকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইটি জাহাজই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হতাহত হন অনেকে। তবে সে যাত্রায় অক্ষতই ছিলেন জেসপ।

আরো পড়ুন : বাবা-মাকে খুঁজতে গিয়ে দেখলেন তিন বছর ধরে বাবা ফেসবুক বন্ধু

পরের বছরই সেই সময়ের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিকে সেবিকার দায়িত্ব পান তিনি। একটি বিশালাকার বরফশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেই জাহাজের করুণ পরিণতির কথা তো এখন সবারই জানা। দেড় হাজারের বেশি মানুষ এই জাহাজডুবিতে প্রাণ হারালেও বেঁচে গিয়েছিলেন জেসপ।

কিন্তু জাহাজ নিয়ে এমন বিভীষিকার স্মৃতি থাকলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আহত সৈনিকদের সেবা করার জন্য ‘ব্রিটানিক’ জাহাজে সেবিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯১৬ সালের ১৯শে নভেম্বর জার্মানির যুদ্ধজাহাজ ইউ-বোট’র আক্রমণে ব্রিটানিকের তলদেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ডুবে যেতে থাকে। জাহাজের তলার একটি অংশ ধরে অলৌকিকভাবে সে যাত্রায়ও বেঁচে গিয়েছিলেন জেসপ।

যুদ্ধের পরে ভায়োলেট হোয়াইট স্টার লাইনের জন্য কাজ চালিয়ে যান। এরপর আবার রয়্যাল মেল লাইনে যোগদান করেন। রেড স্টারের সঙ্গে তার মেয়াদকালে, ভায়োলেট সেই কোম্পানির বৃহত্তম জাহাজ, বেলজেনল্যান্ডে সারা বিশ্বে দুটি ক্রুজে গিয়েছিলেন। ৩০ বছর বয়সে ভায়োলেট বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি।

১৯৫০ সালে তিনি গ্রেট অ্যাশফিল্ড, সাফোকে থেকে অবসর নেন। অবসর গ্রহণের কয়েক বছর পরে, ভায়োলেট এক ঝড়ের রাতে একটি টেলিফোন কল পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, একজন নারী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার রাতে তিনি একটি শিশুকে বাঁচিয়েছিলেন কি না। ভায়োলেট উত্তর দেন হ্যাঁ। তখন সেই নারী তাকে জানান তিনিই সেই শিশুটি। ‘দ্য আনসিঙ্কেবল লেডি’ খেতাব পাওয়া এই নারী ১৯৭১ সালে ৮৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: ব্রিটানিকা

এস/ আই.কে.জে/



ভাগ্যবতী নারী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন