শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আসিফ নজরুল তৃতীয় শ্রেণির লেখক’ *** নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার *** ফাওজুল কবিরের সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টাদের ইফতার ও নৈশভোজ *** আমি কিছু দেখিনি, ভুল কিছু করিনি—বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য *** হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি *** ‘কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না’ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল *** তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান *** ‘ড. ইউনূসের সময়কালে অপসারণ চেষ্টা’—রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের *** কবি মোহন রায়হানকে ‘অপমান’ করায় উদীচীর নিন্দা

রোদ-বৃষ্টি ছাড়াও জাপানের মানুষ কেন ছাতা ব্যবহার করেন

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:১৬ অপরাহ্ন, ১৪ই আগস্ট ২০২৫

#

রোদ ঝলমলে দিনেও ছাতা নিয়ে হাঁটেন জাপানের অনেক মানুষ। টোকিওর ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কিংবা কিয়োটোর প্রাচীন অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে এই দৃশ্য দেখা যাবে। বিদেশি হিসেবে আপনার চোখে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু জাপানের মানুষদের কাছে এটি যে শুধু রোদ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার কৌশল, তা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সংস্কৃতিকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার একাগ্রতা। খবর বিবিসির।

বেপ্পু বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক তাতসুও দানজো জানান, জাপানি ঐতিহ্যে ছাতাকে ধরা হয় ইওরিশিরো, মানে এমন এক বিশেষ বস্তু; যেখানে দেবতা বা আত্মা এসে অবস্থান করতে পারে। সহজভাবে বললে, ইওরিশিরো হলো আত্মা বা দেবতার জন্য একধরনের ‘অস্থায়ী আসন’। তাই প্রাচীনকাল থেকে ছাতা জাপানিদের কাছে আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।

আধুনিক যুগের সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগে, নবম থেকে এগারো শতকের জাপানে ছাতা ছিল কেবল ক্ষমতাবানদের ব্যবহার্য জিনিস। তখন শাসক বা ধর্মীয় নেতাদের মাথার ওপর সম্মান ও আধ্যাত্মিক ছায়ার প্রতীক হিসেবে দীর্ঘ হাতলযুক্ত বড় ছাতা ধরা হতো। বারো শতকের পর সাধারণ মানুষও ছাতা ব্যবহার শুরু করেন। এ কারণে ছাতার প্রতি সাধারণ জাপানিদের যে সম্মান ছিল, সেটি এখনো রয়ে গেছে।

কিয়োটোর ইয়াসুরাই মাতসুরি উৎসব

প্রতিবছর এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয় প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এখানে অংশগ্রহণকারীরা ফুলে সাজানো ছাতা হাতে অংশ নেন। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ ছাতাগুলো মানুষের শরীর থেকে রোগব্যাধি শোষণ করে নিয়ে যায়। এসব ছাতার নিচে দাঁড়ালে সুস্থতা ফিরে আসে।

ফুকুওকার হাকাতা দন্তাকু উৎসব

৩রা থেকে ৪ঠা মে রং আর আনন্দের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে ফুকুওকা। এ সময় শহরের রাস্তায় নেমে আসে বিশাল আকারের বর্ণিল ছাতা কাসাবোকো। স্থানীয় লোকদের বিশ্বাস, এই ছাতার নিচ দিয়ে হাঁটতে পারলে সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্য—দুটোই মেলে। তাই শোভাযাত্রার সময় ভিড় ঠেলে অনেকে চেষ্টা করেন অন্তত একবার হলেও এর ছায়ায় দাঁড়াতে।

কোচি প্রিফেকচারের ওকিনোশিমা দ্বীপে ওবন উৎসব

প্রতিবছরের ১৩ই থেকে ১৬ই আগস্ট জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান এটি। এ সময় স্থানীয় লোকেরা সদ্য প্রয়াত মানুষের আত্মার স্মরণে রঙিন ও সজ্জিত ছাতার বড় বড় কাঠামো তৈরি করেন; বিশেষ করে, দুই বছর পরপর ১৬ই আগস্ট রাতে এই ছাতার কাঠামোগুলো নিয়ে নৃত্যানুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠান আত্মাদের নিরাপদে আত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার প্রতীক। উৎসবটি একদিকে শোকের, অন্যদিকে পুনর্জন্ম ও শান্তির বার্তা দেয়।

জে.এস/

জাপান জাপানিজ ছাতা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250