সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চার এসপিকে বদলি-পদায়ন *** এমপি নজরুলের গ্রেপ্তারে স্পিকারকে চিঠি দিচ্ছে পুলিশ, দ্বিতীয় স্ত্রীর চিরকুটের তদন্ত চলছে *** বাড়ছে হুতিদের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ইরানের হুঁশিয়ারি *** জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী *** সাগরে শক্তিশালী হচ্ছে লঘুচাপ, ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি ঝড়ের আভাস *** আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেভাবে ছড়াল আগুন *** আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাশ উদ্ধার *** জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম স্ত্রীসহ থানায় এমপি নজরুল *** সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা *** কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন

জাতিসংঘের জুলাই আন্দোলনবিষয়ক প্রতিবেদনে ‘ভুল তথ্য’ দাবি, প্রত্যাহারের আহ্বান শেখ হাসিনার আইনজীবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৯:০৪ অপরাহ্ন, ২৯শে মে ২০২৬

#

ফাইল ছবি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘গুরুতর ভুল তথ্য’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আইনজীবী স্টিভেন পাওলস। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিবেদনের সংশোধন এবং প্রকাশ্যে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ হাবিবে মিল্লাত গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভসংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন’ শীর্ষক যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

শেখ হাসিনার পক্ষে লেখা ওই চিঠিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের সদস্য স্টিভেন পাওলস বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি নথিপত্র থেকেই এখন স্পষ্ট হয়েছে যে বিক্ষোভ চলাকালে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার যে দাবি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে করা হয়েছে, তা ‘অত্যন্ত ভুল ও বিভ্রান্তিকর’।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিহতদের অধিকাংশকে সামরিক রাইফেল ও গুলি ভর্তি শটগানের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, যা সাধারণত দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি গেজেটের বরাতে পাওলসের চিঠিতে বলা হয়, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৮৩৪। এছাড়া ছাত্রনেতৃত্বাধীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনও নিহতের সংখ্যা ৬৫০ বলে উল্লেখ করেছে।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য, বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনের মৃত্যুর তালিকা এবং পুনরাবৃত্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাওলসের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করা হলে প্রকৃত সংখ্যা আরও কম হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সত্য থেকে এত দূরে থাকা’ একটি সিদ্ধান্তে জাতিসংঘের প্রতিবেদন পৌঁছানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দেওয়া ও বৈধতা দেওয়ার জন্য ভুল তথ্য ব্যবহারের একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরকে এই বিষয়ে সংশোধনী প্রকাশ এবং ‘ভুল তথ্য’ সংবলিত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাওলস উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ বিষয়ে ‘স্বাধীন অনুসন্ধান’ পরিচালনা করেছিল।

তার দাবি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ’ যথাযথভাবে যাচাই না করেই জাতিসংঘের দল ‘গুরুতর ভুল তথ্য’ সংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসার পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিজেও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এসব অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরের কাছেও অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

পাওলস আরও দাবি করেন, মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই স্বীকার করেছেন যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি অভিযান। তিনি তার ‘বিশেষ সহকারী’ মাহফুজ আলমকে ওই আন্দোলনের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

জাতিসংঘের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার ও ইউনূসের প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পাওলস। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাই অনুসন্ধান কার্যক্রমে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনুসন্ধানের সময়সীমা শুধু ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখায় অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের বাইরে থেকে গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের মতো সহিংস বিক্ষোভে এত মানুষের মৃত্যু মর্মান্তিক ঘটনা উল্লেখ করে পাওলস বলেন, শেখ হাসিনার সরকার পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ তদন্তে একটি কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিল। কিন্তু অতিরঞ্জিত মৃত্যুর সংখ্যা ব্যবহার করে হাসিনাকে ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গণহত্যার নির্দেশদাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সরকার উৎখাতের প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে ৮৩৪টি মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে’ তদন্ত করা আবশ্যক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করতে কিংবা দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে পুরো সংখ্যাটিকে ঢালাওভাবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না।

আরাফাত আরও বলেন, কোনো মিথ্যা বা যাচাইবিহীন আখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় এবং যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার রয়েছে। তার মতে, কেবল একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্তই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে। রাজনৈতিক অপব্যবহার নয়, বরং সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তই ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদন ‘ভুল ও উসকানিমূলক তথ্যকে বৈধতা দেওয়ার’ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে জাতিসংঘ যেন ভুল তথ্য প্রচারের হাতিয়ার হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেদনের সংশোধন ও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্টিভেন পাওলস।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষে জমা দেওয়া একটি যোগাযোগপত্র প্রকাশ করা হয়।

সেখানে স্টিভেন পাওলস রোম সংবিধির ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে আওয়ামী লীগের পক্ষে তদন্ত শুরু করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরকে অনুরোধ জানান।

যোগাযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক’ সহিংসতা চালানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১০ সালের ২৩ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি অনুমোদন করে এবং একই বছরের ১ জুন থেকে এটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

যোগাযোগপত্রে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, অবৈধ আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরের তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

স্টিভেন পাওলসের মতে, বাংলাদেশে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত বা বিচার হওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা না নিলে দায়মুক্তি থেকেই যাবে।

যোগাযোগপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অন্তত ৪০০ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের অনেককে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনটি প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এ কারণে জাতিসংঘের মহাসচিবের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় যেকোনো ধরনের বেআইনি বলপ্রয়োগের ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা উচিত। তবে জবাবদিহিতা অবশ্যই যাচাইকৃত তথ্য, বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

নওফেল প্রতিবেদনের সীমিত পরিধির সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের যেসব অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে, সেগুলো এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোর একটি ‘স্বচ্ছ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন’ তদন্ত পাওয়ার দাবি রাখে, যা পুরো বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করবে।

নওফেল প্রতিবেদটিকে একটি ‘আংশিক আখ্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মতে এটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুহাম্মদ ইউনূসের সমর্থক ও ২০২৪ সালের আগস্টের পর সামনে আসা চরমপন্থী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250