ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম ব্রাদারহুডের মিসর ও জর্ডান শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে এবং লেবাননের শাখাকে আরও কঠোর শ্রেণিভুক্তি অনুযায়ী ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৩ই জানুয়ারি) এই সংক্রান্ত ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখার সহিংসতা ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড যেখানে যেখানে সংঘটিত হচ্ছে, এই ঘোষণা তা প্রতিহত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার সূচনামাত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকা বা তা সমর্থনের জন্য এসব শাখাকে প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।’
রুবিও জানান, সংগঠনটির নেতা মুহাম্মদ ফাওজি তাক্কোশকেও ‘স্পেশালি ডিজাইনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। এর ফলে তার মালিকানাধীন বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব সম্পত্তি জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হবে।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিসর ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সংগঠনটির ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত করার লক্ষ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব শাখা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে বস্তুগত সহায়তা দিয়েছে। এই কারণে তাদের ‘স্পেশালি ডিজাইনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু শাখাকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিসরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব ও ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত; নতুন এই ঘোষণার ফলে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন