শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের হামলা ও হুমকিতে টনক নড়ল আল-শারার, দ্রুজদের সুরক্ষার আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, ১৭ই জুলাই ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, দ্রুজ নাগরিকদের সুরক্ষা তার ‘অগ্রাধিকার’। তিনি এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সংখ্যালঘুদের ওপর সরকারি বাহিনী কর্তৃক হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। আর এই হামলার জবাবে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে ‘ধ্বংস’ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

এর আগে ইসরায়েল হুমকি দেয়, যদি সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল অর্থাৎ সুয়েইদা থেকে প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে তারা হামলা আরও বাড়াবে। ইসরায়েলের এই হুমকির একদিন পর সুয়েইদা অঞ্চল থেকে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে নিয়েছে সিরিয়া। খবর বিবিসির।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার (১৬ই জুলাই) দামেস্কে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৭ই জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে জাতির উদ্দেশে প্রথম টেলিভিশনে ভাষণ দেন শারা। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধকে ভয় পাই না। তবে এ দেশের নাগরিক হিসেবে দ্রুজরাও সুরক্ষার অধিকার রাখেন।’

এরপরই সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দ্রুজ নেতাদের সঙ্গে একটি অস্ত্রবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সুয়েইদা অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে। তবে এই চুক্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা অনিশ্চিত।

গত রোববার থেকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল সুয়েইদায় দ্রুজ মিলিশিয়া ও বেদুইন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৩৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর শারার সরকার প্রথমবারের মতো দ্রুজ অধ্যুষিত সুয়েইদা শহরে সেনা মোতায়েন করে। তবে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুজ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে।

দ্রুজ ধর্ম ‘শিয়া ইসলামের’ একটি শাখা, যাদের স্বতন্ত্র পরিচয় ও বিশ্বাস রয়েছে। সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, জর্ডান, ইসরায়েল ও অধিকৃত গোলান মালভূমিতে দ্রুজ জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার আগের জিহাদিসংশ্লিষ্টতার কারণে সিরিয়ার দ্রুজসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তার ওপর বরাবরই সন্দেহ পোষণ করে আসছে। তার দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) আগের আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এখনো জাতিসংঘের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় এই ভয় আরও বেড়েছে। এর মধ্যে মে মাসে দ্রুজ মিলিশিয়া, নিরাপত্তা বাহিনী ও ইসলামপন্থী যোদ্ধাদের মধ্যে একটি সংঘর্ষ হয়। যার ফলে ইসরায়েল সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

আজকের ভাষণে শারা বলেন, ‘দ্রুজ সম্প্রদায় এই জাতির অঙ্গ এবং ঐক্যের প্রতীক। তাদের বাইরের কোনো শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।’

দ্রুজ সম্প্রদায়

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250