শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল *** তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান *** ‘ড. ইউনূসের সময়কালে অপসারণ চেষ্টা’—রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের *** কবি মোহন রায়হানকে ‘অপমান’ করায় উদীচীর নিন্দা *** কুষ্টিয়ার ‘ওপরওয়ালা’ দাবি করে দেওয়া আমির হামজার বক্তব্য ভাইরাল *** অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়াতে হবে: অর্থমন্ত্রী *** ‘ইউনূস সরকারের মতো তারেক সরকারকে সময় দিতে চান না মাহফুজ আনাম’ *** মন্ত্রীপর্যায়ে ‘কাঁচা’ কথাবার্তা অপরাধকে উসকে দিচ্ছে: জামায়াত আমির *** বগুড়া থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, উদ্বোধন ১০ই মার্চ *** সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানের আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে: সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট

তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৫০ অপরাহ্ন, ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: এপি

গত কয়েক দশক ধরে আফগান তালেবানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল পাকিস্তান। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘কৌশলগত সুবিধা’ পাওয়ার আশায় ইসলামাবাদের হাত ধরেই তালেবানের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের সেই মৈত্রীতে এখন চরম ফাটল ধরেছে। খবর রয়টার্সের।

আজ শুক্রবার (২৭শে ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে বলে ইসলামাবাদ ও কাবুল নিশ্চিত করেছে। এই পাল্টাপাল্টি বিমান ও স্থল হামলায় সীমান্ত সংলগ্ন তালেবানের সামরিক পোস্ট, সদর দপ্তর এবং গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের এই সংঘাত এখন ‘সরাসরি যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।

গত রোববার আফগানিস্তানে কিছু সশস্ত্র জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এরপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর আগে অক্টোবর মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের কয়েক ডজন সেনা নিহত হয়। পরে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় আলোচনা শেষে যুদ্ধবিরতি হয় এবং একটি ভঙ্গুর শান্তিচুক্তি বজায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই সংঘাত তালেবানকে সমর্থনে পাকিস্তানের যে ঐতিহাসিক অবস্থান তা থেকে অনেক দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান যখন দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে, তখন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, আফগানরা ‘দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছে’। কিন্তু খুব দ্রুতই ইসলামাবাদের মোহভঙ্গ হয়। পাকিস্তান এখন অভিযোগ করছে, তালেবান সরকার তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সহযোগিতা করছে না।

ইসলামাবাদের মূল অভিযোগ দুটি—প্রথমত, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং দ্বিতীয়ত, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশ্বব্যাপী সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি-এর তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে পাকিস্তানে টিটিপি ও বেলুচ বিদ্রোহীদের হামলার হার প্রতি বছর বাড়ছে।

পাল্টা অভিযোগে কাবুল বলছে, পাকিস্তান তাদের শত্রু পক্ষ ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস) যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে একটি অস্ত্রবিরতি হলেও সীমান্তে হামলা ও পাল্টাপাল্টি সীমান্ত বন্ধের কারণে তা টেকেনি।

গত সপ্তাহের হামলার আগে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রগুলো দাবি করেছিল, তাদের কাছে ‘অখণ্ডনীয় প্রমাণ’ আছে যে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহৃত হয়েছে। গত সপ্তাহে বাজাউরে ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী ও ২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় এক আফগান নাগরিক জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। টিটিপি ওই হামলার দায় স্বীকারও করেছিল।

২০০৭ সালে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ে টিটিপি গঠিত হয়। তারা পাকিস্তানের মসজিদ, বাজার, বিমানবন্দর এবং সামরিক ঘাঁটিতে অসংখ্য হামলা চালিয়েছে। ২০১২ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপরও হামলা চালিয়েছিল এই গোষ্ঠীটি। টিটিপি যোদ্ধারা আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান তালেবানের হয়ে লড়াই করেছে।

পাকিস্তান টিটিপি দমনে বিভিন্ন সময় সামরিক অভিযান চালালেও স্থায়ী সাফল্য আসেনি। তবে ২০১৬ সালে শেষ হওয়া একটি বড় অভিযানের ফলে কয়েক বছর হামলার সংখ্যা কমে গিয়েছিল।

কাগজে-কলমে দুই দেশের সামরিক শক্তির ব্যবধান বিশাল। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী—পাকিস্তানের সক্রিয় সেনা সদস্য ৬ লাখের বেশি, যেখানে তালেবানের রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার। পাকিস্তানের ৪০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে।

বিপরীতে তালেবানের হাতে কয়েকটি হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ থাকলেও তাদের কোনো কার্যকর বিমানবাহিনী বা যুদ্ধবিমান নেই। পাকিস্তানের ৬ হাজারের বেশি সামরিক যান এবং পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, যা যেকোনো যুদ্ধে দেশটিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পাকিস্তান তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। অন্যদিকে কাবুল ছোট ছোট সীমান্ত চৌকিতে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

পাকিস্তান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250