রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব *** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী *** ‘মেসিকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে’

‘আসিফ নজরুল তৃতীয় শ্রেণির লেখক’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার বলছেন, (সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা) আসিফ নজরুল তৃতীয় শ্রেণির লেখক। উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি যাদের বাংলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, বাসস ও পিআইবির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করেছিলেন, তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে তার ধারণা ছিল নিজের লেখার সমমানের।

তিনি বলেন, যে নিজে যেমন, তেমন মানের লোকদের বেছে নেয় সঙ্গী হিসেবে। আসিফ নজরুল আইন উপদেষ্টা থাকাকালে তার একটি বই নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় যে আলোচকেরা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তাদের সবাই পদ পেয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জাকির তালুকদার। শুক্রবার (২৭শে ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় দেড়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এই পোস্ট দেন।

তিনি লেখেন, আসিফ নজরুলকে আমি তৃতীয় শ্রেণির লেখক বলেছিলাম। এমন কথা বলা আমার স্বভাব নয়। তবু আমি বলে ফেলেছিলাম। এই বলার পেছনে তার সস্তা সেন্টিমেন্টাল লেখাগুলো নিশ্চয়ই বিবেচনায় ছিল, সেই সাথে বিবেচনায় ছিল একটি চির পরিচিত প্রবাদ। তা হচ্ছে- যে নিজে যেমন, তেমন মানের লোকদের বেছে নেয় সঙ্গী হিসেবে। 

তিনি বলেন, তিনি (আসিফ নজরুল) একটার পর একটা পদে নিয়োগ দিচ্ছিলেন (উপদেষ্টা পদে থাকাকালে) আর আহ্লাদে ফেটে পড়ে পোস্ট লিখছিলেন ফেসবুকে। বাংলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, বাসস, পিআইবি-তে যাদের পদায়ন করেছিলেন, তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে তার ধারণা ছিল নিজের লেখার সমমানের। বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। প্রমাণিত হয়ে গেছে সবার যোগ্যতা।

জাকির তালুকদার লেখেন, এমনিতে আসিফ নজরুলের সাথে আমার মাখামাখি না থাকলেও সৌজন্যমূলক সম্পর্ক ছিল। তিনি কখনো কখনো ফেসবুকে আমার পোস্ট পড়ে দ্বিমত পোষণ করতেন, কখনো বা আমাকে 'সত্যিকারের দেশপ্রেমিক' বলে প্রশংসাও করতেন। তিনি উপদেষ্টা নিযুক্ত হবার পরে তার বই নিয়ে একটি আলোচনা সভা হয়েছিল। প্রশংসায় ভরপুর। আলোচকরা সবাই পদ পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বাদ বোধহয় শুধু পাপড়ি রহমান। আসিফ নজরুল বুঝতে পারেননি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে তুচ্ছ লেখারও বিপুল প্রশংসা পাওয়া যায় এই দেশে। এখন উনি পদহারা। মুদ্রার আরেক পিঠও দেখতে পাবেন। 

তবে আমি কামনা করি, তিনি স্বস্তিতে থাকুন। লেখালেখি করুন। তিনি নিজে অন্তত বাংলা একাডেমি পুরস্কারটি নিয়ে নেননি। এই পরিমিতিবোধের জন্য ধন্যবাদ তার প্রাপ্য। আশা করি, একদিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাবে দুইজনে চা খেতে খেতে অনেক গল্প করব।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের গত সরকারের আমলে বাংলা একাডেমির পুরস্কার ফেরত দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন জাকির তালুকদার। ২০১৪ সালে তিনি কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারের ২৪টির বেশি সাহিত্যকর্ম আছে। এর মধ্যে ‘পিতৃগণ’, ‘কুরসিনামা’, ‘কবি ও কামিনী’, ‘ছায়াবাস্তব’, ‘রাজার সেপাই’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

জে.এস/

জাকির তালুকদার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250