ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আরও ছয়টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযানে গণহত্যার অভিযোগে মামলাটি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
নতুন করে হস্তক্ষেপ করা দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডস, আইসল্যান্ড এবং নামিবিয়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি এবং ফিজি ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৩ই মার্চ) শুনানির আগে কয়েকটি রাষ্ট্র আইসিজেতে তাদের লিখিত মতামত জমা দেয়। এর আগে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় হস্তক্ষেপের সুযোগ দেন আদালত।
নেদারল্যান্ডস তাদের জমা দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা আটকে রাখা এবং খাদ্যের ঘাটতির কারণে অনাহারের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া—এসব ঘটনায় গণহত্যার উদ্দেশ্য থাকার ইঙ্গিত রয়েছে।
ডাচ সরকারের মতে, গণহত্যা প্রতিরোধে তৃতীয় রাষ্ট্রগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা বলেছে, ‘গণহত্যা প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা একটি সতর্কতামূলক দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রগুলোর আচরণগত দায়বদ্ধতার অংশ।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষণায় বলেছে—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ওয়াশিংটনের দাবি, বহু দশক ধরে ইসরায়েলকে ‘অবৈধভাবে অভিযুক্ত’ করার জন্য এই ধরনের অভিযোগের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা’।
হাঙ্গেরিও দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার সমালোচনা করেছে। দেশটি বলেছে, এই মামলা গণহত্যার সংজ্ঞাকে অযথা বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতকে রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চে পরিণত করছে।
এদিকে ইসরায়েলের কাছে নেদারল্যান্ডসের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ডাচ নির্মিত এফ-৩৫ লাইটেনিং-২ যুদ্ধবিমানের কিছু যন্ত্রাংশ গাজায় ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও নেদারল্যান্ডস পরে ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইসিজেতে বিভিন্ন দেশের এই হস্তক্ষেপ মামলাটিকে আরও রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিচ্ছে। এর ফলে গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন