ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রংপুরে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত একটি আলোচিত লেখা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম। তিনি বলেছেন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সাবেক সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের নামে প্রকাশিত সেই লেখাটি মূলত মিলনের লেখা ছিল না; এটি লিখেছিলেন গ্রুপের একজন আইনজীবী। পরে তার সম্মতি নিয়েই লেখাটি ইমদাদুল হক মিলনের নামে প্রকাশ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিশিষ্ট সাংবাদিক নঈম নিজাম এসব তথ্য জানান। তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
নঈম নিজাম লিখেছেন, “২০২৪ সালে রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সব কটি পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে ইমদাদুল হক মিলনের নামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। সংকটের সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আবেদন জানিয়ে প্রকাশিত সেই লেখাটি মূলত ইমদাদুল হক মিলনের লেখা ছিল না। সেটি লিখেছিলেন আমাদের গ্রুপের একজন আইনজীবী। সরকারপ্রধানকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে পরিস্থিতির সমাধান করা যেতে পারে, সেই পরামর্শই ছিল লেখাটির মূল বিষয়বস্তু।”
তিনি আরও লেখেন, “তবে সেই আইনজীবী অনুরোধ করেছিলেন, লেখাটি যেন তার নামে প্রকাশ না করা হয়। আবার কারও নাম ছাড়া প্রকাশ করলে লেখাটির গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। এদিকে, লেখাটি অবশ্যই প্রকাশের জন্য আসে। আমি ভাবলাম, ইমদাদুল হক মিলনের নামে প্রকাশ করলে সেটি অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবিত লেখকদের মধ্যে বিশেষভাবে দুজনকে পছন্দ করতেন, একজন আনিসুল হক, অন্যজন ইমদাদুল হক মিলন।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই লেখকের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে নঈম নিজাম তার পোস্টে লিখেছেন, “আনিসুল হক শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের শোকসভায় বক্তৃতা করেছিলেন। তিনি চমৎকার মানুষ। অরুন্ধতী রায় আমার কাছে তার প্রশংসা করেছিলেন। আনিসুল হক আজকের কাগজ, ভোরের কাগজে আমাদের সহকর্মী। আমি তার লেখার ভক্ত।”
একই পোস্টে তিনি ইমদাদুল হক মিলনের বিষয়ে লেখেন, “অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনের পর একমাত্র সম্পাদক হিসেবে মিলন ভাইকে এসএসএফের তৎকালীন ডিজি মুজিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ডেকে পাঠিয়েছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি তখন যেতেন। পরে আমি মিলন ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন তাকে ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘ছোটদের শেখ মুজিব’ নামে একটি বই লিখছিলেন, যার একটি অংশ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হবে। পরে সেটি পূর্ণাঙ্গ বই হিসেবে প্রকাশের পরিকল্পনাও আছে। তার লেখা ‘যে রাতে নেতা নিহত হলেন’ অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের কথাও উঠেছিল; পরে সেটি নাটক হিসেবে নির্মিত হয়।”
নঈম নিজাম আরও জানান, লেখাটি প্রকাশের আগে তিনি ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্য, “আমি মিলন ভাইকে ফোন করে জানালাম, সংকট নিরসনের জন্য একটি লেখা তার কাছে পাঠাচ্ছি। তিনি তখন এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি বললেন, লেখাটি পড়ে আমি যেন প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে দিই। তার নামে প্রকাশ করতে তার কোনো আপত্তি নেই।”
লেখাটি কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি লিখেছেন, “আমি লেখাটির শুরুটা লিখলাম—‘আমি হাসপাতালে…’। এরপর কয়েক লাইন লিখে আইনজীবীর মূল যুক্তিগুলো যুক্ত করে দিলাম, যেখানে সংকট সমাধানের সম্ভাব্য আইনি পথ তুলে ধরা হয়েছিল।”
এরপর তিনি জানান, “লেখাটি মিলন ভাইকে পাঠানোর পর তিনি বললেন, ‘ঠিকই আছে।’ তিনি একটি শব্দও পরিবর্তন করেননি। এরপর সেটি প্রথমে আমাদের সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এবং পরদিন গ্রুপের পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়।”
পোস্টের শেষাংশে ইমদাদুল হক মিলনের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে নঈম নিজাম লেখেন, “মিলন ভাইয়ের জন্য সব সময়ই শুভকামনা। আমাদের কয়েক যুগের সম্পর্ক। দেশ-বিদেশের অনেক স্মৃতি। একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। তিনি আমাকে কয়েকটি বই উৎসর্গ করেছেন।”
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ১৬ জুলাই তার নিহত হওয়ার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি সারাদেশে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং পরবর্তী সময়ে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তা গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
খবরটি শেয়ার করুন