বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রাশিয়ায় পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬ *** নেতানিয়াহুকে হারিয়ে আরও বেশি ‘জায়নবাদী সরকার’ গঠনে বিরোধীদের ঐক্য *** অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট *** উপকূলের তিন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত *** ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী দেশের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ বই’ *** ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ কোনো বই নয় *** অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে কেন্দ্র করে ঘটনা ‘জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার ও দুর্ভাগ্যজনক’ *** ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি: ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করতে বাধ্য করা হলো *** তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ *** যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বেড়েছে ২৪০ শতাংশ

অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

মেইল বা ডাকযোগের ভোট কঠিন করতে নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই আদেশ আপাতত ঠেকিয়ে দিয়েছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের নির্বাসন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের একটি রায় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সেই রায়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা ‘ডিউ প্রসেস’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এ ধরনের নির্বাসন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসন আবার শুরু করার অনুমতি দেয়। এই প্রক্রিয়ায় এমন সব দেশে অভিবাসীদের পাঠানো হয়, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের হয়তো কোনো সম্পর্কই নেই।

আদালতের আদেশে কোনো বিচারপতির স্বাক্ষর ছিল না। তবে সাধারণত জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর থাকে। আদেশে কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি এবং কোন বিচারপতি কীভাবে ভোট দিয়েছেন, তার তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। তবে মঙ্গলবারের আদেশের নিচে আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং এলেনা কাগান—জানিয়ে দেন যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত করা হয়েছে সাময়িকভাবে। আদেশ অনুযায়ী, এ বিষয়ে যুক্তিতর্ক বা শুনানি হবে ডিসেম্বর মাসে। এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এমন সময়, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের বিচারক ব্রায়ান মারফির দেওয়া নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চালিয়ে যাচ্ছে।

বিচারক মারফি রায় দিয়েছিলেন যে অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বা আপত্তি জানানোর একটি ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। এ ধরনের নির্বাসন স্থগিত করার সময় মারফি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কিছু অভিবাসীকে তাদের নির্বাসনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার বা ‘ডিউ প্রসেস’ লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে।

তবে মঙ্গলবারের ঘটনাই প্রথম নয়, যখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জোর করে মানুষকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর এই প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প এই ধরনের নির্বাসন ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছেন।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাসন অভিযান’ পরিচালনা করবেন। তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন, তৃতীয় দেশে নির্বাসন এমন ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি উপায়, যাদের নিজ নিজ দেশ তাদের গ্রহণ করতে রাজি নয়। ২০২৫ সালের জুন মাসেও সুপ্রিম কোর্ট একটি স্বাক্ষরবিহীন আদেশ জারি করে এ ধরনের নির্বাসন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল।

এর ফলে আটজন পুরুষকে তৃতীয় দেশ দক্ষিণ সুদানে নির্বাসনের পথ খুলে যায়। তাদের মধ্যে কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকও ছিলেন। দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণের ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে ‘অপরাধ, অপহরণ এবং সশস্ত্র সংঘাতের’ ঝুঁকি রয়েছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।

সে সময় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব নির্বাসনকে ‘বিজয়’ বলে অভিহিত করেছিল। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছিল, এই পদক্ষেপে মৌলিক আইনি সুরক্ষাগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। সমালোচকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, তৃতীয় দেশ হিসেবে যেসব দেশ নির্বাসিত ব্যক্তিদের গ্রহণ করছে, তাদের অনেকেরই মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে।

নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকায় যেসব আদালতের আদেশ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকায়, সেই আদালতের সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তৃতীয় দেশে নির্বাসনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, তৃতীয় দেশ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কিছু দেশ শেষ পর্যন্ত নির্বাসিত ব্যক্তিদের—যাদের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীরাও রয়েছেন—আবার সেই দেশগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছে, যেখানে তারা নির্যাতন বা অন্য ধরনের ক্ষতির ঝুঁকির কথা জানিয়েছিলেন।

মানবাধিকার সংগঠন রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৩৫টি দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে, যার আওতায় তারা তৃতীয় দেশের নাগরিকদের গ্রহণ করবে। এই দুই সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে। সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মার্কিন সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ ধরনের নির্বাসন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব নির্বাসনের ফলে নির্বাসিত ব্যক্তিরা নির্যাতন ও নিপীড়নের আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন শিশুরা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মানবপাচারের শিকার মানুষ, এলজিবিটি ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা অন্যান্য মানুষ।’

মঙ্গলবার বুরুন্ডি সর্বশেষ দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে প্রবেশ করেছে, যার আওতায় তারা নিজেদের নাগরিক নয় এমন নির্বাসিত ব্যক্তিদের গ্রহণ করবে। বুরুন্ডির কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটি শুধু এমন ব্যক্তিদের গ্রহণ করবে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ফৌজদারি বিচার চলছে না এবং যাদের ‘সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250