ফাইল ছবি
বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা হবে সোমবার দুপুরে। আজ রোববার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শুচিতা শারমিন সুখবর ডটকমকে বলেন, “আগামীকাল দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে উনার জানাজা হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় বাংলা একাডেমিতে রাখা হবে কফিন। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং পরে লাশ নিয়ে আসা হবে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে।”
দাফনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ইচ্ছে আছে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার, এখানে অনুমতি নেওয়ার বিষয় আছে। আমরা চেষ্টা করছি। এখনো জানা যায়নি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র মোহাম্মদ আজম গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় স্যার খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যতদূর শুনেছি, হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে তার দীর্ঘ দিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ শোক প্রকাশ করেছে। শোক প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়াত সভাপতির আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
এছাড়া শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও থিয়েটার পত্রিকা ক্ষ্যাপা।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন তিনি।
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে গুণী এই অধ্যাপকের। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’-এর মতো একাধিক গ্রন্থ। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
খবরটি শেয়ার করুন