ছবি: সংগৃহীত
নতুন আইনের মাধ্যমে নতুন নামে এলিট ফোর্স করার কথা ভাবছে সরকার। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইন ও নামে নতুন এলিট ফোর্স করার কথা সরকার ভাবছে। শিগগিরই এ বিষয় আইন প্রণয়ন করা হবে। সে আইনে এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে।
আজ সোমবার (১৮ মে) র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কুর্মিটোলা র্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘র্যাবের নিজস্ব কোনো আইন নেই। ব্যাটালিয়ানের একটি আইনে র্যাব এতদিন পরিচালিত হতো। এভাবে পরিচালিত হওয়া সঠিক ছিল না। এখন আমরা একটা আইন করব। আলাদা এলিট ফোর্সের জন্য, এখানে অথরিটি কে থাকবে, রেসপন্সিবিলিটিজ কী থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করা থাকবে। সেটার ভিত্তিতে এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা আইন করব, সে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স পরিচালিত করব। আমরা র্যাবের নাম রাখব কি না, নাকি অন্য নতুন ফোর্স গঠন করব কি না তা চিন্তা ভাবনার বিষয়। তবে অবশ্যই নতুন আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে।’
র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের এমন কোনো সংস্থা বাহিনী ছিল না যারা ফ্যাসিবাদি শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কর্মকর্তার জন্য র্যাব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। তাদের বিষয়ে যার যার সংস্থার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। যখন আমেরিকা অনুশাসন দিয়েছিল, তখন র্যাবের কিছু কর্মকর্তা এমন কিছু কার্যক্রম করেছিল, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত ছিল, যা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য বাহিনীগুলোকে ব্যবহার করেছিল। সেজন্য আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব দায়ী না। আমরা বিষয়টি সেভাবে দেখি। কিন্তু আমরা যদি একটা নতুন এলিট ফোর্স গঠন করি, তাহলে হয়তো তার সেটা বিবেচনা করবে। সেটা আশা করা যায়। নতুন নামে আসলে হয়তো তারা বিবেচনা করবে। আমরা সেজন্য নতুন আইন করব।’
আগের মতো র্যাব রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্নের সুরে বলেন, ‘গত তিন মাসে কি অন্য কোনো বাহিনী ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে।’ অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়কেরা উপস্থিত ছিলেন।
খবরটি শেয়ার করুন