আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে উড্ডয়ন করছে একটি বিমান। ছবি: এএফপি
নতুন হুমকির পর যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন সব দূরপাল্লার বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এর কয়েক দিন আগে ওই বিমানঘাঁটিতে হামলার কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। এ ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র, তবে তেহরান অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন—নতুন এক হুমকির পর দূরপাল্লার বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে ব্রিটিশ সরকার একটি কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাজ্যের সেই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো, যেখানে বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা এখন নিশ্চিত করতে পারি যে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান আবার যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।’ তবে বিমানগুলো কেন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।’
সর্বশেষ হুমকি সম্পর্কে অবগত ওই সূত্র ঘটনাটিকে ‘বাস্তব পরিস্থিতিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা’ (রিয়েল ওয়ার্ল্ড ইনসিডেন্ট) বলে বর্ণনা করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য বোমারু বিমানগুলোকে অন্য কোনো আঞ্চলিক ঘাঁটিতে পাঠানোর পরিবর্তে নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা।
ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডেরও একটি কার্যক্রম পরিচালনাকেন্দ্র। দূরপাল্লার হামলা পরিচালনার দায়িত্ব এই কমান্ডের। বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ বিমানঘাঁটির কাছ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
ওই পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, তারা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক, তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং তারা লন্ডন এলাকার বাসিন্দা। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। পুলিশ নিশ্চিত করে, ঘটনাস্থলে থাকা তিনটি ভ্যানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইরান এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তেহরান অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে এবং ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের সময় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি লন্ডনকে তেহরানের প্রতি তাদের কথিত ‘অনুপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি’ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
খবরটি শেয়ার করুন