শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৪০৭ বিদেশি, সাজা শেষে ফেরার অপেক্ষায় ১৭২ *** সাজেক সড়কে অবরোধ অব্যাহত, রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল *** দ্রুততম মানব ইমরানুর, মুকুট ধরে রাখলেন শিরিনও *** ১৩ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণে সহায়তা করেছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রী, গ্রেপ্তার *** কোনো কিছুই পক্ষে নেই, কেন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি সৌদি যুবরাজ *** ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন’ জানিয়ে নওগাঁয় মাইকিং *** ছাত্রীকে যৌন হয়রানির খবরে মহিলা মাদ্রাসায় আগুন, শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ *** ১৩ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক পলাতক *** টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়ন: মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ *** বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের আগে সুখবর দিল বিসিবি

১৩ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণে সহায়তা করেছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রী, গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:১২ অপরাহ্ন, ২৩শে অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আব্দুল বারী (৫০) পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তার স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল  বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা’র ভেতরের একটি কক্ষে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বারী পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আব্দুল বারী ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করান এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসার ভেতর আটকে রাখেন। কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে মাদ্রাসার এক নারী রান্নাবান্নার সহকারীর সহযোগিতায় মেয়েটি সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে তার দাদাকে বিস্তারিত জানায়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা রাতে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাজেও বাধা দেয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাদ্রাসা এবং অভিযুক্তের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য, অভিযুক্তের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ ও তার ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আব্দুল বারীর স্ত্রী নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রীদের স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। তবে এই অভিযোগটির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় আব্দুল বারীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া পুরো ঘটনায় তার স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ধর্ষণে সহায়তা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250