ছবি: সংগৃহীত
আগামী বছরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নেপালের অন্যতম দুই জনপ্রিয় নেতা নতুন জোট গড়ার বিষয়ে রোববার (২৮শে ডিসেম্বর) সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের এই পদক্ষেপ দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এএফপির।
গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী বিক্ষোভের জেরে দেশটির সরকারের পতন হয়। এরপর ৫১ বছর বয়সী টিভি উপস্থাপক ও রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সভাপতি রবি লামিছানে এবং কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ তরুণ প্রজন্মের দাবিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করেছেন।
আরএসপির সহসভাপতি স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, আগামী ৫ই মার্চের নির্বাচন সামনে রেখে এই জোট ‘সাহস, ত্যাগ ও আশার এক বিরল সমন্বয়’। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের নেতারা নেপালের তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশকে স্থান দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।’
বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির জনগণের মাঝে হতাশা তৈরি হয়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর সরকারের স্বল্প সময়ের নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ৮ই ও ৯ই সেপ্টেম্বর তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হন।
দুজনের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, লামিছানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন আর প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হবেন র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে লামিছানে বলেন, ‘ঐকমত্য নেতার ইচ্ছানুযায়ী হওয়া উচিত নয়, বরং দেশের প্রয়োজনে হওয়া উচিত।’
সমবায় জালিয়াতি ও সংঘবব্ধ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া লামিছানে হিমালয়ঘেঁষা প্রজাতন্ত্রটির একজন জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক।
নেপালের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ব্যাপক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালে লামিছানে আরএসপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন।
এদিকে ‘বালেন’ নামে পরিচিত বালেন্দ্র শাহকে রাজনৈতিক পালাবদলের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়। কে পি শর্মা অলির সরকারের পতনের পর সুশীলা কারকির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে সহায়তা করেন তিনি।
গত শনিবার অলি, নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ক পুষ্প কমল দহলের সঙ্গে বৈঠক করেন কারকি। অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের মতবিনিময় এটিই প্রথম।
বৈঠক শেষে কারকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অভিন্ন দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘সরকার একটি অবাধ ও ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমনভাবে কাজ করছি, যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে।’
খবরটি শেয়ার করুন