ফাইল ছবি
সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়ার মতো মন্তব্য সাংবাদিকতা পেশার প্রতি চরম অবমাননা ও অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্যসচিব শেখ জামাল।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিক্রিয়ায় যে ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা শুধু সাংবাদিক সমাজকেই হেয়প্রতিপন্ন করেনি, গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টাও বটে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা, যা রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে। সেই পেশার মানুষের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন মানসিকতার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিতে পারে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফি সমালোচনার মুখে পড়েন। গতকাল ২৪ জুন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীন সাংবাদিকদের বাংলাদেশের ৬০০ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেটসহ হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়া উচিত অন্তত এক অর্থবছরের জন্য।’
ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট বিবৃতি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী হিসেবে সংগঠনটির সদস্য আসাদুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন