বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শীর্ষ অলরাউন্ডার পাকিস্তানের তারকা *** পাকিস্তানকে ‘বোঝাতে’ সিঙ্গাপুরের শরণ জয় শাহদের *** উড়োজাহাজে ঘুমের ভান করে নারীর গায়ে হাত, ভারতীয় যুবক গ্রেপ্তার *** বিএনপি সরকার গঠন করলে এনসিপির অবস্থান কী হবে, ভারতীয় গণমাধ্যমকে যা জানালেন নাহিদ *** বডি ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে যা বললেন সায়ের *** দেশে নিপাহর মতোই বাদুড়বাহিত আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাসের সন্ধান *** তারেক রহমান অত্যন্ত জনপ্রিয়, তার ক্ষমতাকে কে চ্যালেঞ্জ করবে, প্রশ্ন দ্য ডিপ্লোম্যাটের *** আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৪৮ শতাংশ এবার কোন দলকে ভোট দেবেন, যা বলছে জরিপ *** ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী ইসলামি দল’ *** নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইসি

অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান শেকৃবি শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রমবর্ধমান মৎস্যসম্পদ ও অমূল্য জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেছেন, দেশের নদ-নদীসহ মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ২৫ ভাগ বৃদ্ধি পেলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা প্রায় ৮ ভাগ কমেছে। এর অন্যতম কারণ উপকূলজুড়ে কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল, বেহুন্দি জাল ও মশারি জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জালের নির্বিচার ব্যবহার।

আজ বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ‘অবৈধ জাল বন্ধ করো, মৎস্যসম্পদ রক্ষা করো’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ‘প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির’ মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ রানা, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন প্রমুখ।

সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী দেশের মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য সম্পদের গবেষণা তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। দৈনন্দিন প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আসে মাছ থেকে।

তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন বিধ্বংসী ও অবৈধ জালের নির্বিচার ব্যবহারের ফলে পোনামাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ প্রতিনিয়ত নিধন হচ্ছে। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। সরকার অভিযান পরিচালনা করলেও মাঠ পর্যায়ে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়নি’। এই সংকট উত্তরণে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছেন তিনি।

গবেষণা প্রবন্ধে মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। কর্মসূচিগুলো হচ্ছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা ও অভিযোগ দাখিলের জন্য হটলাইন চালু, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা, জেলেদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত ও নজরদারি জোরদার, জাল প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ, মাঠ পর্যায়ে নদী ও মৎস্য রক্ষা কমিটি গঠন, সরকার ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগ ক্যাম্পেইন এবং ‘অবৈধ জালবিরোধী সপ্তাহ’ পালন।

জে.এস/

শেকৃবি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250