বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের কতটা লাভ, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কী নতুন সমীকরণ *** ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে কী লাভ-ক্ষতি বাংলাদেশের *** ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট নেই, তবুও ‘মাদ্রাসা নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে হিন্দু শিক্ষক আটক *** হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট *** জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির আত্মপ্রকাশ *** মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন চিন্ময় কৃষ্ণ *** সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী *** স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম‎ *** মোবাইল হ্যাক, ভয়েস ক্লোন ও স্বাক্ষর জাল নিয়ে সংসদ সদস্যদের চিফ হুইপের সতর্কতা

সুখবর এক্সপ্লেইনার

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে কী লাভ-ক্ষতি বাংলাদেশের

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৯ অপরাহ্ন, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে না—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের এমন বক্তব্যের পর দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতের আমন্ত্রণে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনের সম্প্রসারিত পর্বে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঢাকা সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য কী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না। তার বক্তব্য পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের যাচাইকৃত ফেসবুক পাতাতেও প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য আমন্ত্রণটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ৪ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানকে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের আমন্ত্রণ থেকে আলাদা। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো একটি প্রচলিত রীতি। বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ২৪ ডটকম ও ডেইলি ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এখানেই বাংলাদেশের সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। ঢাকা যদি কেবল আমন্ত্রণের ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে সেটি নয়াদিল্লির প্রতি একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার এটিও সত্য যে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণটি শুধু ভারতকে কেন্দ্র করে নয়; এতে ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিস্তৃত আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনের কারণে এমন একটি বহুপক্ষীয় মঞ্চ এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বৃহত্তর কূটনৈতিক স্বার্থে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ব্রিকস এখন আর আগের পাঁচ দেশের ছোট জোট নয়। সম্প্রসারণের পর এর সদস্যসংখ্যা ১১। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জোটে বিশ্বের প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ, প্রায় ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক উৎপাদন এবং প্রায় ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই পরিসরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের সুযোগকে একেবারে গুরুত্বহীন বলা কঠিন।

ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অধ্যাপক সঞ্জয় কে ভরদ্বাজ টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশ্লেষণে বলেছেন, ব্রিকসের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার তাৎক্ষণিক আঞ্চলিক ভূমিকার বাইরে বৃহত্তর বৈশ্বিক পরিসরে যাওয়ার সুযোগ। তার মতে, বাংলাদেশের এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্নতার বদলে ধারাবাহিক ও বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বাজারের বৈচিত্র্য এবং উন্নয়ন সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ব্রিকসের মঞ্চে ভারত ও চীনের মতো বড় অংশীদারদের সঙ্গে একই জায়গায় আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।

অধ্যাপক ভরদ্বাজের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ২০২১ সাল থেকে ব্রিকস-নেতৃত্বাধীন নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য। তার হিসাবে, ব্রিকসের তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশ—চীন, ভারত ও রাশিয়া—বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতার বড় অংশীদার। রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, চীনের সহায়তায় একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্প হয়েছে এবং ভারতের ঋণসহায়তায় রেল, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে ব্রিকসের একটি বৈঠকে অংশগ্রহণকে কেবল সৌজন্য সফর হিসেবে দেখলে বিষয়টির অর্থনৈতিক দিকটি উপেক্ষিত হতে পারে।

তবে অংশ না নেওয়ার পক্ষে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক যুক্তিও রয়েছে। ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে সবচেয়ে বড় অস্বস্তির জায়গা এখন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য প্রচারের পর তারেক রহমান সরকার প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানায়। ভারত অবশ্য জানিয়েছিল, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংগঠনের আয়োজন। রয়টার্সও ৪ আগস্ট এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান প্রকাশ করেছিল।

এর পর ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সময়ে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও ভারতের সহযোগিতা চেয়ে আসছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

এই বাস্তবতায় ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক মর্যাদার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল। তার মতে, শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানানোর সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তার যুক্তি হলো, ভারতের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও ব্রিকসের মঞ্চে ভারত ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতো।

অধ্যাপক মান্নানের মতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও আমদানির মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। তাই একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সুযোগ সীমিত করা ঠিক হবে না। তার দৃষ্টিতে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখাই বাংলাদেশের জন্য বেশি কার্যকর কৌশল।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নঈম আকতার সিদ্দিক মনে করেন, ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তার মতে, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে। তবে এর বিপরীতে তিনি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার ঝুঁকির কথাও বলেছেন। আমদানি-রপ্তানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সহযোগিতায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের দ্বৈত সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় অধ্যাপক সঞ্জয় কে ভরদ্বাজ লিখেছেন, তারেক রহমানের ব্রিকস সফর না করার পেছনে উচ্চ রাজনীতি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলতে হবে। ব্রিকসকে পুরোপুরি কোনো একটি পক্ষের জোট হিসেবে দেখলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশল অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংকুচিত হতে পারে।

দ্য প্রিন্টের ১৮ আগস্টের এক প্রতিবেদনে ঢাকার রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ভারত যদি শুধু প্রতীকী উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনা এগোনোর সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ ঢাকার একটি অংশ মনে করছে, সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য নয়াদিল্লিকেই এখন দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।

অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডে ২০ আগস্ট জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা পারস্পরিক আস্থা ও অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও তখন বলেছিলেন, জাতীয় স্বার্থ স্পষ্ট না হলে শীর্ষ পর্যায়ের সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।

ব্রিকস সম্মেলন এ কারণে বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চাপের জায়গা হয়ে উঠেছে। অংশ নিলে ভারতকে সরাসরি নিজের অবস্থান জানানো যেত, পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতো। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিয়ে ব্রিকসের আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ ছিল। রয়টার্সের ১০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় অর্থ পরিশোধব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

তবে অংশ না নিলে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের একটি রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হবে—ঢাকা তার সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। এর মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগে কিছু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন—এমন অবস্থানও প্রকাশ পেতে পারে।

কিন্তু ঝুঁকিও কম নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্ক এমন যে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা উভয় দেশের জন্যই ব্যয়বহুল হতে পারে। তিস্তার পানি, গঙ্গার পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, রেল ও যোগাযোগ প্রকল্প, জ্বালানি এবং বাণিজ্য—এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য রাজনৈতিক আস্থা দরকার। অধ্যাপক ভরদ্বাজও মনে করেন, দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।

এদিকে এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বও কম নয়। রয়টার্স ১০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে জোটের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের অবস্থানসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক প্রশ্নে সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের পরীক্ষা হচ্ছে। একই সময়ে চীন, রাশিয়া ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি সম্মেলনটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভ থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব আলাদা। ব্রিকস কোনো সামরিক জোট নয়, আবার কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মঞ্চও নয়। এর ভেতরে অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষিণের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ক্রমবর্ধমান আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য সেই আলোচনার বাইরে থাকা মানে সরাসরি কোনো ক্ষতি নিশ্চিত নয়, তবে একটি কূটনৈতিক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করবে ঢাকা এই অনুপস্থিতিকে কীভাবে পরিচালনা করে তার ওপর। ব্রিকসে না যাওয়ার পাশাপাশি যদি ভারতের সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকে, বাণিজ্য ও যোগাযোগের স্বার্থকে আলাদা রাখা যায় এবং শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিরোধসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে রাখা যায়, তাহলে সিদ্ধান্তটির নেতিবাচক প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব। বিপরীতে অনুপস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দূরত্বের সূচনা করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেই নয়, বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও পড়তে পারে।

অর্থাৎ, ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে এককভাবে জয় বা পরাজয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। তবে সেই বার্তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ধারিত হবে পরবর্তী সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক কীভাবে এগোয় এবং বাংলাদেশ একই সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কতটা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে তার ওপর।

ব্রিকস সম্মেলন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের কতটা লাভ, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কী নতুন সমীকরণ

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে কী লাভ-ক্ষতি বাংলাদেশের

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৯ অপরাহ্ন, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট নেই, তবুও ‘মাদ্রাসা নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে হিন্দু শিক্ষক আটক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫ সেপ্টেম্বর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৫:০৭ অপরাহ্ন, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250