ছবি: সংগৃহীত
সরকারপ্রধান হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে চীন গেছেন। গতকাল বুধবার (২৬শে মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে তার চারদিনের চীন সফর। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। বিষয়টি অধ্যাপক ড. ইউনূসের সফরকে বিশেষভাবে তাপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হয় চীনে, গত জানুয়ারি মাসে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতি বছরই পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাধারণত প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যেতেন। প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে প্রথম সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নিতেন তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনেই যান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এমন সময়ে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন দেশের অর্থনীতি নানামুখী চাপে রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে তার সরকারের জন্য। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর থেকে কী পাবে বাংলাদেশ, এসব হিসাব-নিকাশও সামনে আসছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় চীনের মতো বড় ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সহযোগীর আনুকূল্য প্রয়োজন বলেও মনে করেন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর থেকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অধিকতর বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিকভাবেও তার সফরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে তাদের অভিমত। সফর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, ‘এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের (বাংলাদেশ-চীন) সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’
চীন সফরের আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কে বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেই গুরুত্ব দেবে তার সরকার।’
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারত নির্ভরতার অভিযোগ থাকলেও তাদের টানা চার মেয়াদে চীনের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে চলতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে চীনের সম্পৃক্ততা ও বিনিয়োগ ছিল উল্লেখযোগ্য।
গত বছরের জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সেই সম্পর্কের গতিতে ‘একটা ছেদ পড়ে’ উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘নতুন করে গতি আনা প্রয়োজন’ বলে মনে করেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ।
চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুটা চীন দিয়ে হয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে হবে। যেহেতু চীন দিয়ে শুরু হয়েছে, এর একটা বাড়তি গুরুত্ব দিতেই হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে কোনো নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পর তাদের জন্য এটা প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ যে, সবার সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কোনো সহযোগিতার বিষয়ে এগোলে কথাটা মাথায় রেখেই এগোতে হবে অন্যপক্ষকে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বেইজিং সফরের বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ সুখবর ডটকমকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের নতুন প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার চীন সফর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা কারণে চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।’
চীন সফর শেষে আগামী ২৯শে মার্চ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ততদিনে এ সফর থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা।
এইচ.এস/