রবিবার, ৩১শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বাংলাদেশের শুরু *** ট্রাম্প মারা গেছেন—এক্সে অনেকেই কেন লিখছেন এই কথা *** ৪ শতাংশ সুদে আরও দুই বছর ঋণ পাবেন ভূমিহীন কৃষকেরা *** ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প *** সেই মেরুন টি-শার্ট পরা হামলাকারীর পরিচয় জানালেন প্রেস সচিব *** নুরের অবস্থা স্থিতিশীল, জানালেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক *** আ.লীগ নিষিদ্ধ হতে পারলে জাপা কেন নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল *** কোনো শক্তি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: প্রেস সচিব *** ফেলিক্সের অভিষেক হ্যাটট্রিকে আল নাসরের উড়ন্ত জয়, রোনালদোর ইতিহাস *** টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, ২২ মাস পর একাদশে সাইফ

ছাত্র নেতৃত্বের জন্য চাঁদাবাজির সুযোগ কে সৃষ্টি করেছে, সেটাই বড় প্রশ্ন

এসএম শামীম

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪২ অপরাহ্ন, ৬ই আগস্ট ২০২৫

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন, এনসিপির ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। তার মতে, তরুণ প্রজন্মকে সামনে এনে যে ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়া হয়েছে, সেটি কার্যত তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৫ই আগস্ট) চ্যানেল ২৪‑এর টকশোতে অংশ নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন ভুল মানুষকে সামনে এনে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে। অথচ তারা এখনো বুঝতেই পারছে না কীভাবে ক্ষতিটা হলো।’

উল্লেখ্য, বুধবার (৬ই আগস্ট) পর্যন্ত ওই টকশোটি ইউটিউবে ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০ ভিউ পেয়েছে, যা এর দর্শকপ্রিয়তা প্রতিফলিত করে।

মাসুদ কামাল অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র প্রতিনিধি মনোনয়নের পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এতে করে বহু শিক্ষার্থী নিজেদের বাদ পড়া নিয়ে হতাশ হয়েছেন। ‘এই হতাশা থেকেই তারা এখন চাঁদাবাজি, তদবির কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের পথে হাঁটছে,’ বলেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিতর্কিত এনসিপি নেতা রিয়াদ আদালতে বলেছেন, ‘আমি গরিবের সন্তান, টাকা দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেছিল।’ বিষয়টি উল্লেখ করে মাসুদ কামাল বলেন, ‘একজন তরুণ যখন হঠাৎ করে হাতে বড় অঙ্কের টাকা পেয়ে যায়, তখন দিশেহারা হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতি কে তৈরি করেছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।’ তার মতে, সরকারই অনেক ক্ষেত্রে এসব তরুণদের সামনে সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে, অথচ সেগুলোর সঠিক ব্যবহার কীভাবে করতে হবে, তা শেখাচ্ছে না।

উপদেষ্টা পরিষদ ও নেতৃত্বের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন মাসুদ কামাল। ‘এই পরিষদের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য মানসিক, শারীরিক, রাজনৈতিক বা কোনোভাবেই আন্দোলনের অংশ ছিলেন না। তারা প্রস্তুত ছিলেন না নেতৃত্বের জন্য,’ বলেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো, সেদিনই মনে হয়েছিল এই দলটি দিয়ে হবে না।’ উল্লেখযোগ্যভাবে, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছিলেন, তিনি নিজে এই দায়িত্বের জন্য অভিজ্ঞ নন এবং শেখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সামাল দিতে চান। মাসুদ কামালের মতে, এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি শুরুর দিক থেকেই প্রস্তুত ছিলেন না।

ছাত্র রাজনীতির বাস্তবতা ও ক্ষোভ

বিশ্লেষকের মতে, ছাত্র সমাজের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল উপদেষ্টা নির্বাচনের অস্পষ্টতা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নিহত হওয়া সত্ত্বেও কোনো প্রতিনিধি মনোনীত হয়নি, অথচ যারা মনোনীত হয়েছেন, তাদের পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে। ‘যারা বাদ পড়েছেন তারা এখন ভাবছেন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে চেষ্টা করি, এলাকায় গিয়ে সংগঠন করি, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই—এবং সেই প্রক্রিয়াতেই কেউ কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে,’ মন্তব্য করেন তিনি।

‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা প্রকৃত রাজনৈতিক পরিকল্পনা?

মাসুদ কামাল একটি আশঙ্কা তুলে ধরেছেন, ‘শুরুতে মনে হয়েছিল ড. ইউনূস বোধহয় ভুলবশত টের পাননি। পরবর্তীতে দেখা গেল এটি পশ্চিমা বিশ্বের বাস্তবায়নের পরিকল্পনার অংশ—যা ছাত্রদের অন্যতম আন্দোলনের হাতিয়ারকে নিঃশেষ করেছে।’ এটি ইঙ্গিত করে যে, উদ্দেশ্যই ছিল তরুণ সমাজকে এমনভাবে বিভক্ত করা যাতে সাধারণ মানুষ আর তাদের ডাক শুনতে আগ্রহী না হয়।

সামগ্রিক চিত্র ও ভবিষ্যৎ চিন্তা

মাসুদ কামাল বলেন, ‘এই সরকার মাঠে নেমেছিল একটি চেতনা নিয়ে। কিন্তু সেই চেতনা উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিল না, ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে আমরা সরে যাচ্ছি।’ তার ভাষায়, ছাত্র সমাজকে ব্যবহার করে বরং ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে তাদের ঐক্য, বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা।

তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলন বা গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইলে তরুণদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা থাকবে না, কারণ তারা বারবার দেখেছে ক্ষমতা পেলে কীভাবে কিছু তরুণ সেগুলোকে অপব্যবহার করেছে।

সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তরুণদের সঠিক জায়গায় ব্যবহার না করে বরং বিভ্রান্ত ও বিভাজিত করা হচ্ছে। নেতৃত্বের জায়গায় যোগ্যতা নয়, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা রাজনৈতিক সুবিধার ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা ছাত্র সমাজে হতাশা তৈরি করছে। তার ভাষায়, ‘ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ গড়ার বদলে তাদের দিয়ে নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করার খেলাই চলছে।’

অতঃপর, যদি রাজনীতির ভবিষ্যতে ছাত্র সমাজ সত্যিকারের উপাদান ও নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে চায়, তাহলে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, নির্বাচনভিত্তিক মনোনয়ন, এবং দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক প্রশিক্ষণ—যা না হলে তরুণদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।


মাসুদ কামাল মেটিকুলাস ডিজাইন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন