বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৯০ ক্রিকেটার ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ *** ‘তারেক রহমান মনোনীত ৩০০ গডফাদারকে না বলুন, বাংলাদেশ মুক্তি পাবে’ *** সরকারি কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে প্রচার দণ্ডনীয়: ইসি *** যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েনে মধ্যস্থতা করতে চায় তুরস্ক *** ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ *** হাজিরা পরোয়ানাকে ‘জামিননামা ভেবে’ হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ছেড়ে দিল কারা কর্তৃপক্ষ *** আওয়ামী ভোটব্যাংক: জয়-পরাজয়ের অদৃশ্য সমীকরণ *** ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তি অযৌক্তিক নয়’ *** শিক্ষকদের বাড়তি বেতনসুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি *** ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৪০০ কারখানা বন্ধ, দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন’

প্রতিবাদের মুখে শিবিরের প্রদর্শনী থেকে সরানো হলো দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, ৬ই আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ শিক্ষার্থী, কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের ক্ষোভ ও দাবির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসি চত্বরে আয়োজিত ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনী থেকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। মঙ্গলবার (৫ই আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ছবিগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই: আমরা থামব না’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির। ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি স্থান পায়।

বিগত আওয়ামী লীগের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের মধ্যে ছয়জন মৃত্যুদণ্ডে এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সাঈদী কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। অপর ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার টিএসসিতে প্রদর্শনীতে এই সাতজনের ছবি স্থান পাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা প্রদর্শনীর কাছে গিয়ে এসব ছবি রাখার প্রতিবাদ জানান, বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ছবিগুলো সরানোর দাবি জানান। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেন। এসব ছবি রাখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা টিএসসিতে যান। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবির মুখে তারা বলেন, এসব ছবির বিষয়ে তারা অবগত নন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ওই সাতজনের ছবি সরিয়ে দেন।

বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে এসব ছবি স্থান দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, টিএসসি চত্বরে এসব ব্যক্তির ছবি টাঙিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন দ্বিমুখী নীতি নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সামি আবদুল্লাহ বলেন, শিবির ‘৭১ বনাম জুলাই দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আনামুল হাসান অনয় বলেন, যারা ‘৭১, ’৯০ কিংবা ২০২৪-এ পরাজিত হয়েছে, তারা ফিরে আসতে চাইলে ঢাবির ছাত্রসমাজ আজকের মতোই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তবে ছাত্রশিবির বলছে, তারা মনে করে, প্রদর্শনীতে যাদের ছবি ছিল, তারা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’। ঢাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন খান বলেন, শাহবাগ থেকে যে ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল, তা জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান পর্বে পরাজিত হয়েছে। যে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত ছিল, তাতে যারা শিকার হয়েছেন, তারাও ফ্যাসিবাদের শিকার।

ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে মিছিল করে। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

শিবির যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250