ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী মোতায়েন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার চাহিদা অনুযায়ী ‘পরমাণু চুক্তিতে’ সই না করলে হামলার হুমকি দিতেও পিছপা হচ্ছেন না এই রিপাবলিকান নেতা।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের ‘অস্থিরতা’ দূর করায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে রিজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দেশ তুরস্ক। আজ বৃহস্পতিবার (২৯শে জানুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আগামীকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন। ওই সফরে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন ও মধ্যস্থতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখবেন হাকান।
দুই দেশের সম্পর্কে আরও অবনতি দেখা দিলে তুরস্ক তাদের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে বলেও জানিয়েছেন তারা। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এমন সময় আরাকচি আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন যখন মার্কিন নেতা ইরানে সামরিক হামলার প্রছন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ মাসের শুরুতে দেশটিতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করা হয়।
অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। গ্রেপ্তার হন অনেকে। আটকদের অনেককেই ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় তেহরান। মূলত এসব কারণেই হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
পরবর্তীতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে নীরবে আন্দোলন দমন করে শাসকগোষ্ঠী। তবে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এলেও জনমনে এখনো ক্ষোভ রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেই বিক্ষোভের সলতেয় আগুন দেওয়ার চিন্তা করছেন ট্রাম্প। তিনি ভাবছেন, মার্কিন হামলা এলে ইরানের জনগোষ্ঠী মনোবল ফিরে পাবে। তারাই শাসকের পরিবর্তন ঘটাবে।
গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি মার্কিন নৌবহর এসে পৌঁছায়। ট্রাম্প হুশিয়ারি দেন, তারা প্রয়োজনে ইরানে হামলা চালাতে ‘প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম’।
আগামীকাল শুক্রবারের বৈঠকে ‘আলোচনার মাধ্যমে অস্থিরতা’ দূর করার প্রস্তাব রাখবেন হাকান। এমনটাই জানিয়েছেন ওই কূটনীতিক সূত্র।
খবরটি শেয়ার করুন