সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ *** আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা কার্যালয়ে দুপুরে নেতা-কর্মীদের স্লোগান, বিকেলে অগ্নিসংযোগ *** ঠাকুরগাঁওয়ে দেড় বছর পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে স্লোগান *** মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন রণতরী, কী ঘটছে ইরানের সঙ্গে? *** তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত: জামায়াত আমির *** ড. ইউনূস ‘দ্বিতীয় মীরজাফর’ ও ‘আমেরিকার দালাল’, তার পোস্টারে আগুন *** নতুন সরকার যখন বলবে তখনই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী *** দেশের জন্য কাজ করতে এসে আমার সব সঞ্চয় শেষ, দাবি সেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের *** নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আইজিপি *** ভারত কি সত্যিই বিএনপি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়বে

চালের দামে দিশেহারা, স্বল্প আয়ের মানুষেরা

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, ৪ঠা নভেম্বর ২০২৪

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

চাল নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রধান পণ্য। বাংলাদেশের মানুষ চাল ছাড়া একদিনও কল্পনা করতে পারে না। স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয়ের একটি বড় অংশ চালের পেছনে যায়। যখন বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি, সবজি, ডিম, মুরগির মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম চড়া, তখন চালের দাম আরো বাড়ার কারণে মানুষের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বছরে দেশে চার কোটি টনের মতো চাল উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে দেড় কোটি টনের মতো উৎপাদিত হয় আমন মৌসুমে। বন্যার কারণে এবার চাল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের অনেক জায়গায় আমনের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে আমন ধান উৎপাদন অনেক কম হবে।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন চালের দাম ৭ থেকে ১০ শতাংশ বেশি। গত এক মাসে বেড়েছে ২-৩ শতাংশ।

টিসিবির হিসাব মতে, বাজারে এখন মোটা চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৫ টাকা। মাঝারি চাল ৫৮-৬৩ টাকা। সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকা কেজি। গত এক মাসে  চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৮ টাকা।সরু চালের সর্বনিম্ন দর ৮ টাকা বেড়ে ৭২ টাকা হয়েছে। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিতে ২ টাকা, মাঝারি চাল ৪ টাকা এবং সরু চালের দাম ১২ টাকা বেড়েছে। চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুইটি কারণের কথা বলেছে। এক, ধানের দাম বেড়েছে ও দুই. আমনের উৎপাদন কম হওয়া।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চালের দাম মূলত অটো চালকলমালিকদের হাতে বন্দী। তারা প্রশাসনের নজরদারির অভাবে নানা অছিলায় চালের দাম বাড়াচ্ছেন। চালের বাজারে হাজারের বেশি অটো মিল মালিক থাকলেও মূলত ৫০টি বড় মিল মালিক চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ধান কেনা, মজুত থেকে শুরু করে তা ভাঙিয়ে চালে পরিণত করাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করছে। বাজারে কত দামে চাল বিক্রি হবে, তা বড় অটো মিলমালিকরাই নির্ধারণ করছেন। তারা যখন যে দাম ঠিক করে, সেই দামে মিলগেট, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চাল বিক্রি হয়। এমনকি চাল আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রেও তাঁরাই বড় ভূমিকা রাখছেন। দাম নিয়ন্ত্রণে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় অসাধু মিল মালিকেরা ইচ্ছে মতো চালের দাম বাড়িয়ে  অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে।

চালের বাজারের সিন্ডিকেট কোনোভাবেই ভাঙতে পারছে না সরকার। বাজার তদারকি কার্যক্রম ছাড়াও খুলে দেয়া হয়েছে আমদানির দরজা। চাল আমদানিতে শুল্ক কর প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।এতকিছুর পরেও কোনোভাবেই বাজার  নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার।

সরবরাহে কোনোরকম সংকট না থাকলেও সরকারের সব নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে মিল মালিক ও মজুমদাররা। এছাড়া ঢাকার বাদামতলী,মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজারের বড় ব্যবসায়ীও এই চক্রে জড়িত।

চালের দামে দিশেহারা,স্বল্প আয়ের মানুষেরা। এ পরিস্থিতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও কারসাজি ঠেকাতে সরকারকে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমদানির বিকল্প নেই। সরকারের উচিত,এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ব্যাপকভাবে চাল সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

ওআ/ আই.কে.জে/


চাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250